সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতি

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে ছবি তুলেছেন ফটো সাংবাদিক মাহবুব আলম

রাত পোহালেই আসবে সেই কাঙ্খিত সময়। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার এই গুরুত্বপূর্ণ দিনকে সামনে রেখে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রাজধানীর রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা গেল ব্যস্ততার এক ভিন্ন চিত্র, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নির্বাচনি সরঞ্জাম। দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার সেই মুহূর্তে স্পষ্ট ছিল এক ধরনের চাপা উত্তেজনা, সঙ্গে দায়িত্ববোধের দৃঢ়তা।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিসকাল থেকেই কলেজ প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। নির্দিষ্ট কক্ষ ও বুথে সারিবদ্ধভাবে রাখা ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্প, ব্যালট পেপার, ভোটার তালিকা, কালি, সিলগালা খামসহ প্রয়োজনীয় সব উপকরণ। প্রতিটি সরঞ্জাম তালিকা মিলিয়ে বুঝে নিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিনির্বাচনি দায়িত্ব মানেই শুধু ভোটগ্রহণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং আইন মেনে চলার কঠোর অঙ্গীকার। তাই সরঞ্জাম হস্তান্তরের সময়ও অনুসরণ করা হচ্ছে নির্ধারিত নিয়ম। প্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসার স্বাক্ষরের মাধ্যমে গ্রহণ করছেন দায়িত্ব, সঙ্গে নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিপ্রত্যেক প্রিজাইডিং অফিসারের সঙ্গে নিরাপত্তার জন্য থাকছেন একজন করে পুলিশ সদস্য। নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্র পর্যন্ত নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই তাদের মূল কাজ।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতি

নির্বাচনের দিনকে ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরঞ্জাম বিতরণের সময়ও কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল দৃশ্যমান পুলিশি উপস্থিতি। শুধু পুলিশ নয়, নির্বাচন ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি ভোটারদের মধ্যে আস্থা জোগায়, একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে।

নির্বাচনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে কেন্দ্র, সরঞ্জাম ও ভোটার সব কিছুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সেনাবাহিনী ও বিজিবি সাধারণত টহল ও বিশেষ দায়িত্বে থাকেন, আনসার সদস্যরা কেন্দ্রভিত্তিক দায়িত্ব পালন করেন আর পুলিশ সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিনির্বাচনের মূল দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাররা। ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা, ব্যালট বিতরণ, ভোটার যাচাই, গণনা শেষে ফলাফল প্রস্তুত সবকিছুই তাদের তত্ত্বাবধানে।

একজন প্রিজাইডিং অফিসারের কাজ শুধু প্রশাসনিক নয়; তিনি একটি কেন্দ্রের সার্বিক নিয়ন্ত্রক। ভোটের দিন তার সিদ্ধান্তই অনেক ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে পোলিং অফিসাররা ভোটারদের সরাসরি সহায়তা করেন, তালিকা যাচাই করেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে গতিশীল রাখেন।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিরেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে সরঞ্জাম গ্রহণের সময় অনেক কর্মকর্তার চোখেমুখে দেখা গেছে দায়িত্বের গুরুত্বের ছাপ। কেউ কাগজপত্র মিলিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার শেষবারের মতো নির্দেশনা শুনছেন মনোযোগ দিয়ে।

নির্বাচনের সময় ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা থাকে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোট দিতে পারা। সরঞ্জাম বিতরণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তুতি সেই প্রত্যাশারই অংশ। ভোটকেন্দ্রে সেনা, বিজিবি, আনসার ও পুলিশের উপস্থিতি সাধারণ ভোটারের মনে নিরাপত্তাবোধ জাগায়। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে যে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়মমাফিক সম্পন্ন হবে।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিএকটি জাতীয় নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয়েরও বড় পরীক্ষা। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের প্রাঙ্গণে যে প্রস্তুতির চিত্র দেখা গেল, তা মূলত এই সমন্বয়ের প্রতিফলন। সরঞ্জাম বিতরণ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সবকিছুই একটি বৃহৎ ব্যবস্থার অংশ।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতি১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি তারিখ নয়; এটি নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগের দিন। সেই দিনের আগে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। সরঞ্জাম বুঝে নেওয়া থেকে শুরু করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে দেখা সেই ব্যস্ততা যেন স্মরণ করিয়ে দেয় একটি নির্বাচন শুধু ব্যালট পেপার আর বাক্সের আয়োজন নয়; এটি হাজারো মানুষের দায়িত্ব, সতর্কতা ও সমন্বয়ের ফল।

সরঞ্জাম হাতে ভোটযুদ্ধের শেষ প্রস্তুতিএখন অপেক্ষা ১২ ফেব্রুয়ারির। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রওনা দেবেন নিজ নিজ কেন্দ্রে, নিরাপত্তা বলয় থাকবে সক্রিয় আর ভোটাররা যাবেন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে। প্রস্তুতির এই দৃশ্যই বলে দিচ্ছে নির্বাচনের দিনটি ঘিরে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে পূর্ণ প্রস্তুতিতে।

জেএস/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।