নারীদের আশ্রয়স্থল এসপি শামসুন্নাহার

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১১ আগস্ট ২০১৮

‘শামসুন্নাহার’ নামটির কারণে সবাই তাকে চেনে। বিশেষ করে নারীদের কাছে তিনি আশ্রয়স্থল। সাধারণ মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় এ নামটি স্বর্ণাক্ষরে গেঁথে দিয়েছেন। দুইবার জাতীয় পুলিশ সপ্তাহে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে নেতৃত্ব দিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় এসেছেন। নারী হয়েও মানুষের হৃদয় জয় করেছেন সহজেই। বিস্তারিত জানাচ্ছেন রিফাত কান্তি সেন-

একজন পুলিশ সুপার: চাঁদপুরের পুলিশ সুপার হয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগের কারণে তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, নারী নির্যাতনের মত স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে তার জিরো টলারেন্স নীতির কারণে সাধারণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

police4

কর্মকাণ্ড: কর্মদিবসে তার কার্যালয়ের সামনে নারীদের বিশাল লাইন দেখা যায়। অনেকটা এমন যে, পুলিশ সুপারের কাছে এলেই সব সমস্যার সমাধান হবে। আসলেই পুলিশ সুপারের কাছে এলে সমাধান পেত ভুক্তভূগীরা। এজন্য নারীদের ভিড় লেগে থাকতো চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে। ২০১৫ সালের ১৫ অক্টোবর চাঁদপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন অভিযোগ সেল’ খোলেন তিনি।

> আরও পড়ুন- সুবীরের বিচিত্র সংগ্রহশালা!

সততা: একজন সৎ ও আদর্শবান পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি ছিলেন সাধারণের কাছে একজন অসাধারণ ব্যক্তি। নারী হয়েও তিনি পুরুষের সঙ্গে সমানতালে লড়েছেন। কর্তব্যের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অনড়। শুধু তাই নয়, মাদক ও বাল্যবিবাহ বিরোধী ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন। শামসুন্নাহার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছিলেন মাদকের বিরুদ্ধে। সন্ত্রাস এবং জঙ্গীবাদ দমনেও তার ভূয়সী প্রশংসা করছে সাধারণ জনগণ।

police4

কে এই শামসুন্নাহার: ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবিয়া ইউনিয়নের মেয়ে শামসুন্নাহার। ২০০১ সালে বিসিএস পাস করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে ‘সহকারী পুলিশ সুপার’ হিসেবে যোগ দেন। মানিকগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ বিভাগে প্রশংসিত হন। ২০০৯-২০১০ সালে পূর্ব তিমুরে জাতিসংঘ মিশনের মাধ্যমে পূর্ব তিমুর জাতীয় পুলিশের মানব সম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১-২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চাঁদপুরের পুলিশ সুপার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে গাজীপুর পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

> আরও পড়ুন- তাজউদ্দীন আহমদ : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রূপকার

পদক: জাতিসংঘে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার কারণে তিনি সাত বার ‘জাতিসংঘ পদক’ লাভ করেন। দুই বার ‘আইজি ব্যাজ’সহ সেবা প্রদানকারী হিসেবে বিভিন্ন পদকে ভূষিত হন। এছাড়া ‘পিপিএম পদক’ ও ‘ওমেন অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন।

police4

গুণাবলী: নানা গুণে গুণান্বিত এসপি শামসুন্নাহারের কণ্ঠও চমৎকার। ব্যস্ততার মাঝেও তার গান মানুষের মনে প্রশান্তি জোগায়। এছাড়া ২০১৬ এবং ২০১৭ সালে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে নেতৃত্ব দেন। ২০১৬ সালে দেশের প্রথম নারী হিসেবে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহের প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়ে নারীর মর্যাদাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলেন। এছাড়া মানুষে-মানুষে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসন করেছেন। নিরাপদ সড়কের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর।

এসইউ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]