কেমন ছিল বহুল আলোচিত বাবরি মসজিদ

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৯

বাবরি মসজিদ ছিল ভারতের বহুল আলোচিত একটি ধর্মীয় স্থাপনা। যা এখন কেবলই ইতিহাস। ১৯৯২ সালে ঐতিহাসিক মসজিদটি ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গায় দুই সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। তারপর চলতে থাকে মামলা। আজ সে মামলার রায় ঘোষণা করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আসুন জেনে নেই সেইসব ইতিহাস-

অবস্থান: বাবরি মসজিদ ভারতের উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যা শহরের রামকোট হিলের উপর অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।

babri-in

নামকরণ: মসজিদটি ১৫২৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতের প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে নির্মিত হয়। বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ফলে বাবরের নাম অনুসারে নাম রাখা হয় বাবরি মসজিদ।

নির্মাণশৈলী: বাবরি মসজিদ জানপুরের সুলতানি স্থাপত্যের পরিচয় বহন করে। বাবরি মসজিদ তার সংরক্ষিত স্থাপত্য ও স্বতন্ত্র গঠনশৈলীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মসজিদটি সম্রাট আকবর দ্বারা গৃহীত ইন্দো-ইসলামি গঠনশৈলীর প্রতীক ছিল।

babri-in-(2)

বৈশিষ্ট্য: আধুনিক স্থপতিদের মতে, বাবরি মসজিদের চিত্তাকর্ষক স্বনবিদ্যার কারণ হলো মসজিদটির মিহরাব ও পার্শ্ববর্তী দেয়ালগুলোতে বিভিন্ন খাঁজ, যা অনুনাদক হিসেবে কাজ করত। এ নকশা মেহরাবে অবস্থিত ইমামের কথা সবাইকে শুনতে সাহায্য করত। এছাড়াও বাবরি মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বেলেপাথর অনুনাদের কাজ করে, যা মসজিদটির শব্দ-নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সাহায্য করত।

হিন্দুদের দাবি: হিন্দু সমাজের একটা বড় অংশ বিশ্বাস করে, তাদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামচন্দ্রের জন্মস্থানের ওপর বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। ভারতে বহু দশক ধরে সবচেয়ে বিতর্কিত ও রক্তক্ষয়ী ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত হয়ে এসেছে এই বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি বিরোধ।

babri-in (3)

মসজিদ ঘিরে দাঙ্গা: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। এর মাধ্যমে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে। যা দেড় লাখ মানুষের একটি দাঙ্গায় রূপ নেয়। তখন মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিস্মাৎ করা হয়। ফলে সে সময়ে ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়। যা মুম্বাই ও দিল্লি শহরে ২ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়।

মামলার রায়: বাবরি মসজিদের ভূমি মালিকানার রায় ঘোষণা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। ৯ নভেম্বর স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় দেশটির প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছেন, অযোদ্ধার বিতর্কিত স্থানে রাম মন্দির নির্মিত হবে; বিকল্প হিসেবে বাবরি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলিম ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি অন্যত্র দেওয়া হবে।

এসইউ/পিআর