জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার তাগিদ
ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট তীব্র হচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ, মজুত ও বিতরণে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণের তাগিদ দিয়েছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের প্রেসিডেন্ট জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু প্রমুখ।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, জ্বালানি তেলের অবৈধ বিপণন ও চুরির বিষয়ে নানা সিদ্ধান্ত তৎকালীন সরকার নিলেও কার্যত কিছুই করা হয়নি। যার কারণে ইরান যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যত্রতত্র খোলা তেল বিক্রির নামে কিছু লোক খোলা ড্রামে, গুদামেসহ বিভিন্ন স্থানে তেল মজুত করছেন, যা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়ছে। আবার ভাউচারের মাধ্যমে তেল পরিবহন ও বিভিন্ন পরিবহন থেকে চোরাই পাইপ লাগিয়ে তেল চুরির মতো ঘটনাও বেড়েছে। যেহেতু জ্বালানি তেল মজুত, সরবরাহ ও বিপণন কোনো প্রকার নজরদারি নেই, সে কারণে সরকারের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত এবং সরবরাহ, এমনকি বন্দরে ও অনেকগুলো তেলের জাহাজ পাইপলাইনে থাকার ঘোষণা দিলেও মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটছে না। অধিকন্তু, জ্বালানি তেল নিয়ে মানুষের মাঝে শঙ্কা ও বিভ্রান্তি বাড়ছে। তেলের জন্য দেশজুড়ে হাহাকার, ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, অধিকাংশ পাম্পে পর্যাপ্ত তেল নেই, তেলের জন্য দীর্ঘ সারি, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা এবং দূর-দূরান্ত এমনকি ৫০-৬০কিলোমিটার দূর থেকেও গ্ৰাহক শহরে এসে তেল পাচ্ছে না।
তারা বলেন, এ অবস্থায় জ্বালানি মন্ত্রণালয়, বিপিসি ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির মাধ্যমে যদি পরিষ্কারভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়, কোন কোন্ পাম্পে তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ আছে? তাহলে গ্রাহকরা ওই পাম্প থেকে তেল নিতে পারবে এবং পাম্প টু পাম্প দৌড়াদৌড়ি কমবে। এতে গ্ৰাহক ভোগান্তিও অনেকাংশে কমবে। এছাড়াও স্থানীয় পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞাপন অথবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জনগণকে অভিহিত করা যেতে পারে।
নেতারা আরও বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল চুরি, সিন্ডিকেট এবং মজুতদারি ঠেকাতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো, তেলের পরিস্থিতি জনগণকে অবহিত করলে যে বিভ্রান্তি আছে, সেটা কেটে যাবে। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার নয়, তেলের মজুত ও সরবরাহের সার্বিক তথ্য নজরদারি করা, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ বিষয়ে জনগণকে প্রতিনিয়ত সঠিক তথ্য প্রদান করা গেলে এ সংকট কাটানো যাবে বলে আশা করেন।
নেতরা আশা করে বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জ্বালানি সাশ্রয়নীতি গ্রহণ করে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এবং সাধারণ জনগণকে জ্বালানি সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করা, তেল ব্যবহারে কৃচ্ছতা সাধন, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা এবং বিষয়টি সরকারি দপ্তরগুলো অনুসরণ করছে কি না তা পরিবীক্ষণের গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ক্যাব সদস্যসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সমন্বয়ে নাগরিক নজরদারি জোরদার করার আহ্বান জানান।
এমডিআইএইচ/এসএনআর