নারী হয়ে জন্মানো কি ভুল?

ফিচার ডেস্ক
ফিচার ডেস্ক ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৩৬ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

মাসুমা মুসরাত শৈলী

আমি কারো বোন, কারো মা, কারো প্রেয়সী, কারো সহধর্মিনী। আবার আমিই হয়ে উঠি কারো ভোগবিলাসী। আমি একা চলতে না পারার ব্যর্থতায় চার দেওয়ালেই লুকিয়ে থাকি। তাহলে কি থেমে যাবে আমার স্বপ্ন। আমি চাইলেই একা বের হতে পারি না। মনে হয়, এই বুঝি বখাটেদের খপ্পরে পড়বো। আজকাল শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক কেউ ছাড় পাই না কিছু বিকৃত রুচির মানুষের কাছে। তাহলে কি আমার জীবন অন্ধকারে রয়ে যাবে।

নারী জাগরণ, নারী উন্নয়ন ও নারী মুক্তির অগ্রদূত বেগম রোকেয়া নারীদের অন্ধকার জীবন থেকে আলোয় আসার আন্দোলন করে গেছেন। তিনি পুরুষশাসিত সমাজের নির্মম নিষ্ঠুরতা, অবিচার, কুসংস্কারে জর্জরিত অশিক্ষা ও পর্দার নামে অবরুদ্ধ জীবনযাপনে বাধ্য নারীকে আলোর পথে নিয়ে আসার জন্য সংগ্রাম করেছেন। বেশিরভাগ পুরুষ সম্মান করলেও কিছু পুরুষ করেন না। তারা ভাবতেই পারেন না যে, নারীরা কাজ করুক। সেই ভয়েই বেড়ে গেছে বাল্যবিয়ে। একজন নারীর স্বপ্ন এখানেই চাপা পড়ে। তাহলে কি ধরে নেব নারী হয়ে জন্মানোটাই ভুল।

আজকাল আমি খুব অসহায়। চারদিকে শুধু যৌন নিপীড়নের খবর। তাদের অসহায়ত্বের কথা শোনার কেউ নেই। আমি ভয়ে থাকি, এই বুঝি কারো লালসার শিকার হয়ে যাচ্ছি না তো। যৌন নিপীড়িত হওয়ার ভয়ে বাবা-মায়েরা কম বয়সেই বিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন। যার কিনা পুতুল খেলার বয়স; সে কিনা হাল ধরছে গোটা সংসারের। সে স্বামী-সংসার বোঝার আগেই জন্ম দিচ্ছে আরেক শিশুর।

একজন নারী যখন অন্ধকারে পথ হারায়, তার পাশে থাকা পুরুষই আলো হয়ে আসে। আবার এই পুরুষ দ্বারাই সে ধর্ষিতা হয়। সমাজে ধর্ষিতাদের মুখ লুকিয়ে চলতে হয় আর ধর্ষকরা বুক ফুলিয়ে চলে। তাহলে তো নারী হয়ে জন্মানো বড় ভুল ছিল। এই সমাজ নারীদের ফেলনা মনে করে। তারা ভেবেই নেন, নারীরা সংসার-সন্তান সামলাবে। তারা ভুলেই যান, প্রতিটি পুরুষের সাফল্যের পেছনে একজন নারীর অবদান।

যখন নারীরা টাকা বাঁচানোর জন্য লোকাল বাসে উঠি, যুবক তো আছেই; সেইসঙ্গে যুক্ত হন বাবা-চাচার বয়সী পুরুষ। তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা ভুলেই যান, তার বাসায়ও নারী আছেন। আবার পুরুষরাই আমাদের সম্মান জানিয়ে নিজের সিট ছেড়ে দেন। প্রতিদিন সমাজে বিকৃত মস্তিষ্কের পুরুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফলে বেশিরভাগ নারীই যৌন নিপীড়নের শিকার। এই নারীর সমাজে টিকে থাকা কষ্টের। একপর্যায়ে তারা বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

তাহলে কি অসহায় নারীরা ভেবেই নেব, সমাজ আমাদের আত্মহত্যা করতে বাধ্য করে! স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পরও নারীরা স্বাধীনভাবে একা চলতে পারে না। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে চলতে চাই। আপনার-আমার সন্তান অ-আ শেখার আগে তাদের শেখানো উচিত, নারীকে সম্মান করা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব।

এসইউ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]