গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায় কেন পড়বেন?

রায়হান আহমদ
রায়হান আহমদ রায়হান আহমদ , নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের বিষয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা। এ বিষয়ে পড়তে মুখিয়ে থাকেন ভর্তিচ্ছুরা। দেশের পাবলিক ও প্রাইভেটসহ প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ের উপর চার বছরের অনার্স এবং এক বছরের মাস্টার্স করানো হয়।

বাংলাদেশে ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে এক বছর মেয়াদী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স চালু হয়। ১৯৭৭-৭৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে তিন বছর মেয়াদী অনার্স চালু হয়। আরও পরে সেটি চার বছরে রূপান্তর করা হয়। নব্বইয়ের দশকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। তারও পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ খোলা হয়।

সাংবাদিকতা বিভাগে যা পড়ানো হয়: গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে শুধু সাংবাদিকতাই পড়ানো হয় না। এখানে গণযোগাযোগ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এখানে যোগাযোগের মৌলিক ও তাত্ত্বিক বিষয়গুলো পড়ানো হয়। যোগাযোগ কৌশল ও যোগাযোগ পরিকল্পনা পড়ানো হয়। কমিউনিকেশন অফিসার, পাবলিক রিলেশন অফিসার হতে গেলে গণযোগাযোগ পড়তেই হবে।

এ ছাড়া একজন সাংবাদিকের সব বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরি। এর জন্য সাংবাদিকতা বিভাগের পাঠ্যপুস্তকে ভিন্নতা থাকে সব সময়। এ বিভাগে ফটো এডিটিং, ভিডিও এডিটিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি, বেসিক কম্পিউটার শেখানোর পাশাপাশি কমিউনিকেশন, মিডিয়া রিসার্চ, পাবলিক রিলেশন, মিডিয়া অ্যাডভোকেসি, এডিটিং প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য দেওয়া হয়। এমনকি তথ্যপ্রযু্ক্তি, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিষয়েও পড়ানো হয়ে থাকে।

চাহিদা ও ভবিষ্যৎ: দেশে স্যাটেলাইট চ্যানেল ও পত্রিকার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর জন্য রিপোর্টার, নিউজ প্রেজেন্টার, সাব-এডিটর, ওয়েব ডিজাইনার, সম্পাদনা সহকারী, আর্টিস্ট, কার্টুনিস্টসহ বিভিন্ন সেক্টরে জনবল প্রয়োজন। এসব ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীরাই প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। সংবাদপত্র, ম্যাগাজিন বা রেডিওর ক্ষেত্রে সাধারণত একজন সংবাদদাতা হিসেবে একজন শিক্ষার্থী তার ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। টেলিভিশন চ্যানেল আর রেডিওর ক্ষেত্রে প্রতিবেদক কিংবা সংবাদপাঠক বা উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। পরে সম্পাদক, প্রযোজক, বার্তাকক্ষ নিয়ন্ত্রকসহ অন্যান্য সিনিয়র পদে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিভাগে পড়াকালীন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ফিচার, প্রবন্ধ, সম্পাদকীয় লিখে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেন। পড়াশোনা অবস্থায় বিভিন্ন পত্রিকায় সাব-এডিটর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে বিভিন্ন মিডিয়া হাউজগুলোয় ইন্টার্ন করে আগেই নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারেন।

মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অর্জন করে শিক্ষার্থীরা বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোয় কাজ করতে পারেন। ডয়েচ ভেলে বাংলা, বিবিসি বাংলা, চায়না রেডিও, এফপি, এপিপি, আল জাজিরার বাংলাদেশ প্রতিনিধি হতে পারবেন। গণমাধ্যমগুলোর প্রধান অফিসে কাজ করার সুযোগ-সুবিধা পান এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

এ বিভাগের শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার শুধু সাংবাদিকতাই নয়; সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগের শিক্ষার্থীরা গণসংযোগ, বিজ্ঞাপন এজেন্সি, ফিল্ম মেকিং, ব্যাংকিং এবং শিক্ষকতার মতো বিভিন্ন পেশায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। বড় প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকে পাবলিক জনসংযোগ সেল আছে। সেখানে পাবলিক রিলেশন্স অফিসারসহ বিভিন্ন পদে সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে বিদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাহিদা গণযোগাযোগে। তাই স্নাতক এবং মাস্টার্স শেষ করেই আপনি যোগাযোগের যে কোনো খাতে কাজ করতে পারবেন অনায়াসেই। দেশি-বিদেশি এনজিওতে যোগাযোগ কর্মকর্তা হতে পারবেন সহজেই। এ ছাড়াও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতা বা যোগাযোগ বিষয়ে আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের দেশ সুইডেন, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ডের মতো উচ্চশিক্ষার দেশগুলোয় ফুল ফান্ড স্কলারশিপ নিয়ে উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন।

যেখানে পড়বেন: বাংলাদেশে প্রায় ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ অথবা সাংবাদিকতা ও মিডিয়া নামের বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মানারাত ইউনিভার্সিটি অন্যতম।

ভর্তি হবেন যেভাবে: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। উত্তীর্ণের পর বিষয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিভাগটির কথা অবশ্যই উল্লেখ করবেন।

লেখক: শিক্ষার্থী ও সংবাদকর্মী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

এসইউ/জিকেএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।