সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ
ই-সিগারেট ও তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বহালের দাবি
তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষায় ই-সিগারেট এবং বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বহাল রাখার আহ্বান জানিয়েছে দেশের তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো। এসব ধারা বাদ দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো জানায়, তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ থেকে ই-সিগারেট এবং বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা বাদ দেওয়ার উদ্যোগ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তারা উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ই-সিগারেটসহ নতুন ধরনের তামাকপণ্য তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তির প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করে। একইভাবে, দোকানে তামাকপণ্য প্রদর্শন শিশু ও কিশোরদের এসব পণ্য ব্যবহারে আকৃষ্ট করে এবং ব্যবহার বাড়ায়।
সংগঠনগুলোর মতে, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাদ দেওয়া হলে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হবে। এতে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়বে এবং তামাক নিয়ন্ত্রণে অর্জিত অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ধারা দুটি অবিলম্বে পুনরায় যুক্ত করার জন্য আমরা সরকার ও সংসদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। জনস্বাস্থ্য এবং তরুণদের নিকোটিন আসক্তি থেকে সুরক্ষার বিষয়টি সংকীর্ণ মুনাফার ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করে। তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের ফলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এ খাত থেকে অর্জিত রাজস্বের দ্বিগুণেরও বেশি। বর্তমানে দেশের ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।
এ পরিস্থিতিতে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর না হলে জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনস্বার্থে ই-সিগারেট ও তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধের ধারা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে।
এসইউজে/এসএইচএস