কলোরেক্টাল ক্যানসার

প্রাথমিক শনাক্তকরণে বাঁচতে পারে ৯০ শতাংশ রোগী: মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬
কলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস পালন নিয়ে সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন/ছবি: সংগৃহীত

কলোরেক্টাল ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

‘কলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস’ পালন নিয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) সিটি করপোরেশনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

শাহাদাত হোসেন জানান, বিশ্বব্যাপী মার্চ মাস কলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা মাস হিসেবে পালিত হয়। এ উপলক্ষে ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্তকরণ জীবন বাঁচায়’ প্রতিপাদ্য নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিএসসিআর হাসপাতাল ও পিজিএস একাডেমির যৌথ উদ্যোগে মাসজুড়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে ‘ব্লু মার্চ’ আলোকসজ্জা করা হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের অংশগ্রহণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় বলে জানান মেয়র।

তিনি দাবি করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে এত বড় পরিসরে সমন্বিত কলোরেক্টাল ক্যানসার সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কর্মসূচির আওতায় কোলোনোস্কপি ও স্টুল অকাল্ট ব্লাড টেস্টসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় দেওয়া হয়। এতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সচেতনতা মাসে সিএসসিআর হাসপাতালে দুই হাজার ১৫৭ রোগী নিবন্ধন করেন। তাদের মধ্যে এক হাজার ৭৪৯ জনকে বিনা মূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ দেওয়া হয় এবং ৮১৩ জন বিভিন্ন পরীক্ষায় মূল্যছাড় সুবিধা নেন।

মেয়র বলেন, সচেতনতার অভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা নেন, ফলে রোগ জটিল হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, হাম রোগের প্রকোপ বাড়ায় আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় পাঁচ মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী প্রায় তিন লাখ শিশুকে হাম টিকা দেওয়া হবে বলে জানান মেয়র।

চট্টগ্রামকে ‘হেলদি সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল আমিনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআরএএইচ/একিউএফ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।