কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে আগ্রহ ডব্লিউএইচও মহাপরিচালকের

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৪৪ পিএম, ২১ মে ২০১৮

গ্রামপর্যায়ে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের প্রশংসা করে এই কার্যক্রম পরিদর্শনের আগ্রহ দেখিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস।

তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো যে সফলতা দেখিয়েছে তা বিশ্বের অনেক দেশের জন্য অনুসরণীয় ও দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সোমবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় প্যালেস ডি নেশনসে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা পরীক্ষিৎ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাক্ষাতের সময় তেদ্রোস আধানম বাংলাদেশের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার স্বাস্থ্যসেবায় সফলতা দেখিয়ে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে সম্প্রতি সময়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার মান যথেষ্ঠ উন্নত হয়েছে। এ সময়ে স্বাস্থ্যখাতের এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে বাংলাদেশকে সবধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ড. তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাসকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী।

এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধি রাখার জন্য মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সংস্থার মহাপরিচালক বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের প্রশংসা করলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও এখন আন্তর্জাতিকমানের টিকা উৎপাদন হচ্ছে। বাংলাদেশের তৈরি টিকাগুলোকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সাক্ষাতের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. পুনম ক্ষেত্রপাল সিং, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান, বাংলাদেশ চিকিৎসা গবেষণা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, সুইজারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম শামীম আহসান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের চেয়াম্যান ডা. দিলীপ রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার রাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ইভেন্টের বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের নির্যাতিত প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বাংলাদেশ।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা মোকাবেলায় মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকদের পেশাগত প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এমইউ/জেডএ/বিএ

আপনার মতামত লিখুন :