রোগীর মৃত্যুতে চিকিৎসক দায়ী নন : ‘কিডনি গায়েব’ প্রসঙ্গে বিএইউএস

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ০৮:৪৪ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০১৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে কিডনি অপারেশন করতে গিয়ে রোগী রওশান আরার মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস’র (বিএইউএস) নেতারা। তারা বলছেন, চিকিৎসক কিডনি চুরি বা অন্য কাউকে দিয়ে দিয়েছেন বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা মোটেও সঠিক নয়। এ কারণে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএইউএ ‘র পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।

বিএইউএসের নেতারা বলেন, টিস্যু টাইপিং ছাড়া একজনের কিডনি আরেকজনের দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। কীভাবে কিডনি ফেলে দেয়া হলো- জানতে চাইলে তারা বলেন, রওশান আরার কিডনি অ্যাবনরমাল (জোড়া লাগানো) ছিল। আগেও দুবার অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের সময় একটি কিডনি আনতে গিয়ে ভুলে আরেকটি নিয়ে আসা হয়। একটি কিডনি ফুলে থাকায় অন্যটি দেখা যায়নি। রোগীর মৃত্যু কাম্য না হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলে মৃত্যুর জন্য চিকিৎসক দায়ী নন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস’র (বিএইউএস) সভাপতি এস এ খান বলেন, কিডনি অপারেশন করতে গিয়ে রোগী রওশান আরার মৃত্যু ‘রেয়ার, আনইনটেনশনাল অ্যান্ড সিচুয়েশনাল’। চিকিৎসকের অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে রোগীর মৃত্যু হয়।

রওশান আরার মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করে জনগণকে চিকিৎসকের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান এস এ খান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ও বর্তমানে গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জামানুল ইসলাম ভূঁইয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস’র (বিএইউএস) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস’র (বিএইউএস) সেক্রেটারি জেনারেল ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেজ অ্যান্ড ইউরোলজি হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শওকত আলম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনস’র (বিএইউএস) সাবেক সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।

চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরা গত ৩১ অক্টোবর রাতে মৃত্যুবরণ করেন। রফিক শিকদারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) বাম কিডনির অপারেশন করাতে গেলে ডা. দুলাল তার মায়ের দুটো কিডনিই কেটে রেখে দেন। রোগীর অবস্থার অবনতি হলে অন্য হাসপাতালে নিয়ে সিটি স্ক্যান করার পর কিডনি চুরির এই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়।

গতকাল শনিবার ডা. হাবিবুর রহমান দুলালের ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য মাঠে নামে চলচ্চিত্র পরিবার।

কিডনি জটিলতার কারণে গত ৫ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রওশন আরার অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল।

রফিক শিকদারের অভিযোগ, হাসপাতালের মায়ের অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, মায়ের ডান পাশের কিডনিটি কাজ করেছে না। দ্রুত আইসিইউতে নেয়ার কথা বলেন তিনি। তবে তিনি এটাও জানান, বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি নেই। একদিন পর ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার হুমায়ুন রশিদ কবীর সেলিম মায়ের কিডনির অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে সিটিস্ক্যান করতে বলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করার পর রিপোর্ট মারফত মায়ের পেটে কিডনির অস্তিত্ব নেই বলে জানতে পারি।

অবস্থা বেগতিক দেখে বিআরবি হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডাক্তার এমএ সামাদের দ্বারস্থ হই। মেডিকেল রিপোর্ট দেখার পর পর্যালোচনা করে এবং পুনরায় আলট্রাসনোগ্রাম করে কোনো কিডনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

এমইউ/জেডএ/আরআইপি

আপনার মতামত লিখুন :