‘রোগী-স্বজনের মানসিক অবস্থা অনুভব করুন’

বিশেষ সংবাদদাতা
বিশেষ সংবাদদাতা বিশেষ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১০:৫০ পিএম, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯

স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকতর রোগীবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে চিকিৎসক, নার্স ও সবস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ইতিবাচক ও সেবামূলক মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনের মানসিক অবস্থাকে মানবিকতার সঙ্গে অনুভব করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের গ্রামে-গঞ্জে খেটে খাওয়া কোটি কোটি মানুষের অতি সাধারণ প্রত্যাশা, তারা যেন হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের আন্তরিক ছোঁয়া পান। তাদের আকাঙ্ক্ষা যেন চিকিৎসকদের সেবায় প্রতিফলিত হয়, সেদিকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার সচিবালয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সভার শুরুতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বিএমএর নেতৃবৃন্দ। প্রতিনিধি দলে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি, সম্পাদক ও নির্বাহী কমিটির সদস্যসহ প্রায় ৫০ জন ছিলেন।

উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের আবাসন সংকট নিরসনের উদ্যোগ দ্রুত নেয়া হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য দুটি করে ডরমেটরি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী, বিভাগীয় পর্যায়ে ক্যান্সার ও কিডনি হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণার কথাও এ সময় তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে চিকিৎসক স্বল্পতা দূর করতে খুব শিগগিরই আরও ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। নতুন চিকিৎসকদের গ্রামে পদায়ন করা হলে হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট অনেক কমে যাবে। গত পাঁচ বছরে চিকিৎসাশিক্ষার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে নতুন ৭৫০টি আসন বাড়ানো হয়েছে। আগামীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

জাহিদ মালেক বলেন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোকেও এখন থেকে নিয়মিত কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে।

সভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, চিকিৎসা শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অপর এক মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্বকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে অনাকাঙিক্ষত ঘটনা এড়াতে চিকিৎসক ও রোগীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের কাজ শেষপর্যায়ে। এ সভার শুরুতে স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজের নেতৃত্বে কার্যকরী কমিটির ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দল স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এমইউ/জেডএ/বিএ