ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে তৎপর দুই সিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮:০১ পিএম, ০৭ জুলাই ২০১৯

এডিস মশার বিস্তার ও প্রজননের সবচেয়ে অনুকূল পরিবেশ বর্ষা মৌসুম। এবারও বর্ষায় রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া এবং মশার জ্বালায় অনেকটা অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী। এজন্য তারা সিটি কর্পোরেশনের মশক নিধন প্রক্রিয়াকে দায়ী করছেন।

অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশন বলছে, ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মোকাবিলায় এবং মশক নিধনে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দুই সিটির উদ্যোগ 

ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া মোকাবিলা এবং মশক নিধনে গত ১ জুলাই থেকে ক্যাশ প্রোগ্রাম চালু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।

এ বিষয়ে ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, ‘রাজধানীতে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে আমাদের মশক নিধনকর্মীরা একযোগে কাজ করবেন। এ ছাড়া ১৫ জুলাই ডিএসসিসি বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা হটলাইন চালু করবে। নগরের কেউ অসুস্থ হলে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।’

জানা গেছে, গত ১ জুলাই থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৫টি অঞ্চলে প্রতিটি ওয়ার্ডের মহল্লায় মহল্লায় মশক নিধনে ক্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হচ্ছে। ২ জুলাই থেকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। তৃতীয় সপ্তাহে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া প্রকোপ দেখা গেলে কল সেন্টার খোলা হবে। সেই সঙ্গে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। ১৫ জুলাই থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যসেবার জন্য ৪৫০টি মোবাইল টিম কাজ করবে বলে জনিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

অন্যদিকে মশক নিধন ও নিয়ন্ত্রণে রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে দুই সপ্তাহব্যাপী ক্র্যাশ প্রোগ্রাম গত ২৯ জুন থেকে শুরু হয়েছে। স্বাভাবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল, ফগার মেশিন ও ওষুধ মজুত নিয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত এ প্রোগ্রাম চলবে বলে জানিয়েছেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুন।

এ ছাড়া ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বাউল গানের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন রোডশো পরিচালনা করছে।

dncc

ডিএনসিসির পাঁচটি অঞ্চল থেকে পাঁচটি ট্রাকে করে বাউল শিল্পীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে গানে গানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করেছেন।

অন্যদিকে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনায় সঠিকভাবে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হয় না নগরবাসীর এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। কোন এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হয়নি এমন অভিযোগ তদন্তে প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ কমিটি গঠন করবে সংস্থাটি।

মশক নিধন কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না- তা তদারকি করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে স্থানীয় সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি, ঈমাম, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা বা কর্মচারীর সমন্বয়ে এ কমিটি গঠন করা হবে।

মশা মারতে দুই সিটির বাজেট কত?

মশক নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশনের কার্যকারী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজধানীবাসী। প্রতিবছর মশক নিধন কার্যক্রমে দুই সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বাড়ছেই কিন্তু তেমন সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকার মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে দুই সিটি মিলিয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭ কোটি টাকা।

২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটের রাজস্ব ব্যয়সহ অন্যান্য উন্নয়ন ব্যয়ে দেখা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে মশকনিধন ওষুধ কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি টাকা। ফগার, হুইল, স্প্রে-মেশিন পরিবহনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কচুরিপনা, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা করতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা।

dncc

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশরেন চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে মশকনিধন ওষুধ কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ফগার, হুইল, স্প্রে-মেশিন পরিবহনে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি টাকা। এ ছাড়া কচুরিপনা, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যা করতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা।

যা বললেন দুই সিটি মেয়র

রোববার (৭ জুলাই) সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরীর মশানিধন কার্যক্রম নিয়ে পর্যালোচনা সভায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন ডিএসসিসি মেয়র সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে অন্যান্য এলাকার তুলনায় মশার উপদ্রব বা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক কম। কিন্তু আমাদের যেসব নতুন ইউনিয়নগুলো যুক্ত হয়েছে কিংবা ধানমন্ডি, মানিকনগর ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বেশ কিছু ঝোপঝাড় রয়েছে, সেখানে গাছপালা রয়েছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যাপক এলাকাতে ডেঙ্গু বা মশার উপদ্রব তেমনভাবে নেই।’

একই সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মশক নিধনকর্মীদের একটি লগবুক করছি। এটি আগামী ৭ দিনের মধ্যে আমরা পাবলিকলি করে দেব। কোন এলাকায় কোন মশককর্মী যাবে এবং তার ফোন নম্বর কত তা আমরা স্থানীয় সবাইকে বলে দিতে চাচ্ছি। তখন আপনারা ফোন করতে পারবেন যে, আমার এই রোডে এই মশককর্মী যায়নি। আমরা তাকে ফোন করতে পারব। ফোন নম্বরটা আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দিচ্ছি, পাবলিকলিও আমরা জানিয়ে দেব। প্রথমবারের মতো আমরা একটি চটি বই করেছি, এটা অনলাইনে দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি মশার ওষুধের কম্পোজিশন (রাসায়নিক মিশ্রন) যেটা থাকে, ১১ বছর ধরে একই ধরনের কম্পোজিশন চলছে। ডাব্লিউএইচও (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা) অনুমোদন নিয়ে নতুন ওষুধ ও নতুন কম্পোজিশন এনে এই প্রথমবারের মতো আমরা ট্রাই করতে যাচ্ছি।’

এএস/এনডিএস/এমএস