সেমিনারে বক্তারা

কিডনি-রক্তদানের চেয়েও কর্নিয়া দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২২

মৃত্যুর পর একজন মানুষ চোখের ছোট একটি অংশ (১২ এমএম) কর্নিয়া দানের মাধ্যমে একজন অন্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি দান করা সম্ভব। এর মাধ্যমে মৃতুর পরও একজন মানুষ অন্ধ মানুষের জীবনব্যাপী চোখের আলো হয়ে থাকতে পারেন। কর্নিয়া দান করলে মৃত্যুর পর চেহারার কোনো বিকৃতি ঘটে না। ধর্মীভাবে এ বিষয়ে কোন নিষেধ নেই। ইরানের মতো মুসলিম অধ্যুষিত দেশেও সবাই মৃত্যুর পর চক্ষু দানের অঙ্গীকার জীবিত থাকা অবস্থাতেই করে থাকে। কর্নিয়া দান করা, রক্তদান ও কিডনি দান করার থেকেও সহজ একটি প্রক্রিয়া।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) বিএসএমএমইউর শহীদ ডা. মিলন হলে মরণোত্তর চক্ষুদানে উৎসাহিত করতে ‘আপনার চোখের কর্নিয়া দান করে মৃত্যুর পরও অন্ধ মানুষের জীবনব্যাপী চোখের আলো হয়ে থাকুন’ স্লোগান নিয়ে ‘ক্যারাটোপ্লাস্টি অ্যান্ড আই ডোনেশন, বাংলাদেশ পার্সপেক্টিভ’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বাংলাদেশ কর্নিয়া অ্যান্ড রিফ্রাক্টিভ সার্জনস (বিসিআরএস) সন্ধানী আই ব্যাংকের (আই হাসপাতাল) যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার এসব কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, সন্ধানী আই ব্যাংকের তথ্যমতে দেশে ৬০০০ মানুষ চক্ষু সংযোজনের জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০০ জন এখনো কর্নিয়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বে ভুগছেন। তাদের চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করলে দৃষ্টি ফিরে পাবেন।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, বহুদিন থেকে আমি সন্ধানীর সঙ্গে জড়িত। আমি সন্ধানীর প্রথম চক্ষু উত্তোলন করেছি। ৩৮ বছরে ৪ হাজার চক্ষুদান করার সুযোগ পেয়েছে সন্ধানী।

তিনি বলেন, সন্ধানীসহ চক্ষু দানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের আগামী ৫ বছরের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিতে হবে। আমরা ঠিক কতটি চক্ষু দান করতে পারবো তা নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য জনসচেতনতার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে দেশের গণমাধ্যমের বিরাট অবদান রাখতে পারে। মরণোত্তর চক্ষুদানের বিষয়ে ভারত শ্রীলঙ্কা নেপালের সঙ্গে কাজ করে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করতে হবে।

অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দেশে কৃষকদের কর্নিয়ায় রোগ সংখ্যা একটু কমেছে। সচেতন করতে ধান ও পাট কাটার সময় কৃষকদের চোখে চশমা পরতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। চোখ পরিষ্কার করার জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে। কানের মতো করে চক্ষু পরীক্ষা করা যাবে না। টিস্যু দিয়ে চোখ পরিষ্কার করার সময় চোখে আঘাত লাগার কারণে অন্ধ হয়ে যাবে। এটি ট্রমা জনিত অন্ধত্ব। তাই যেনতেনভাবে চোখ পরিষ্কার করা যাবে না।

সেমিনারে বলা হয়, বিশ্বে অন্তত ২.২ বিলিয়ন মানুষের দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৪.২ মিলিয়ন মানুষের কর্নিয়ার অস্পষ্টতা রয়েছে। তবে বাংলাদেশে মানুষের মধ্যে চক্ষু দান করার প্রবণতা নেই বললেই চলে। বিদেশ থেকে আমদানি করে অন্ধ মানুষের চোখে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে। সন্ধানীর মাধ্যমে অল্প কিছু সংখ্যক কর্নিয়া পাওয়া যায়। যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্নিয়া দানের উৎসাহ সৃষ্টি করতে ব্যাপক জনসচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশের (ওএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. একেএমএ মুক্তাদির। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সন্ধানী ন্যাশনাল আই ডোনেশন সোসাইটি এবং সন্ধানী ইন্টারন্যাশনাল আই ব্যাংক, বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. তোসাদ্দেক হোসাইন সিদ্দিক। সভাপতিত্ব করেন বিসিআরএস এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কাদের।

সেমিনারে হাউ টু ইনভলব দ্যা হোল নেশন ইন আই ডোনেশন-আওয়ার রেসপন্সসিবিলিটি শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভান্সমেন্ট ইন ক্যারাটোপ্লাস্টি: নিউ ইনসাইটস শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. মো. শাফি খান এবং ডা. মো. জয়নাল ইসলাম সন্ধানী-দি টর্চ বেয়ারার অফ আই ব্যাংকিং ইন বাংলাদেশ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল্লাহ, অধ্যাপক সারোয়ার আলম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ এ হাসান।

এএএম/এমআইএইচএস/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।