শ্রবণপ্রতিবন্ধী আরও ২১ শিশু পেল কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট
শ্রবণপ্রতিবন্ধী আরও ২১ অসচ্ছল শিশুর মধ্যে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট এক্সটার্নাল ডিভাইস বিতরণ করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এ নিয়ে সাত শতাধিক শ্রবণপ্রতিবন্ধী স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। যাদের প্রায় বেশিরভাগই শিশু।
শনিবার (২ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট এক্সটার্নাল ডিভাইস বিতরণ করেন বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো শারফুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউ’র কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট প্রকল্পের কর্মসূচি পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এইচএম জহুরুল ইসলাম সাচ্চু।
উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইসের মূল্য একটি টয়োটা গাড়ির সমান। যা বর্তমান সরকারের আমলে বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট ডিভাইসকে সার্জারি মাধ্যমে কানে স্থাপনের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি সুদক্ষ সার্জারি টিম। তারা সফলভাবে এ মহতী কাজটি সম্পন্ন করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, যেসব শিশুরা কানে শোনেন না, তারা কথাও বলতে পারেন না। এখানে তাদের স্পিচ থেরাপিস্টের মাধ্যমে কথা শেখানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে এ সব শিশুরা কানে শুনতে পারছে, কথা শিখে বলতে পারছে এবং পড়াশোনা করতে পারছে। ফলে তারা সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরতে পারছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত শ্রবণপ্রতিবন্ধী ৭৪৫ জন কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করা হয়েছে। যাদের প্রায় সবাই শিশু।

উপাচার্য বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার হলো জনকল্যাণমুখী সরকার। বিশ্বমানবতার প্রতীক শেখ হাসিনার আমলে দেশের কোনো মানুষ অবহেলিত থাকবে না। কোনো মানুষ সমাজ ও পরিবারের বোঝা হয়ে থাকবে না। প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে এবং বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
শারফুদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, এ সরকারের আমলে অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসাসহ তাদের সার্বিক উন্নয়নে যে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে তা বিশ্বের জন্য উদাহরণ। একইভাবে শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা সম্পূর্ণ বধির শিশুদের জন্য যেভাবে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে তাও বিশ্বের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আর এর পুরো কৃতিত্ব, অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার অবদানের কারণেই সুস্থ সুন্দর জীবন ফিরে পাচ্ছে প্রতিবন্ধী শিশুরা।
এএএম/এমএএইচ/জেআইএম