‘কোম্পানির কমিশন নিয়ে ওষুধ লেখা অপরাধ’

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬:৫৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ওষুধ কোম্পানিগুলো টাকা দিয়ে ওষুধ লেখায়, এটা অপরাধ উল্লেখ করে চিকিৎসকদের রেফারেল ফি’র চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও প্রখ্যাত চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারে (বিআইসিসি) চক্ষুবিদ্যায় ২০ থেকে ২৩ সাল পর্যন্ত পোস্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা নবীন চক্ষু বিশেষজ্ঞদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, অনৈতিক উপার্জনের জন্য মরণের পর জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের তিনটি গুণ অর্জন করতে হবে, তাহচ্ছে আদর্শ, সততা ও রোগীর প্রতি দায়িত্ববোধ।

অনৈতিক রোজগারের জন্য জবাবদিহি করতে হবে জানিয়ে অধ্যাপক ডা. মো. দীন মোহাম্মদ নুরুল হক বলেন, ‘আমাদের মরতে হবে। এসব কথা মাথায় রাখতে হবে। মনে থেকে রেফারেল ফি’র চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিতে হবে।’ ডাক্তারদের মাস শেষে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো নিজেদের ওষুধ লেখায়, এটা অপরাধ।

তিনি বলেন, আমার ৪০ বছরের অভিজ্ঞতায় আমি বলতে পারি, আমি কোনো চশমার দোকান, কোনো হাসপাতাল বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পয়সা নেইনি। এটা আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি। নিজকে গঠন করতে পারলে রেফারেল ফি’র প্রয়োজন পড়বে না। দক্ষতা অর্জন করতে পারলে রোগীরাই খুঁজে বের করবে। এজন্য অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে।

বাংলাদেশে রেফারেল ফি কমিশন বেইজড মন্তব্য করে তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে ফার্মেসি, সেখানে হাসপাতালের বিভিন্ন স্টাফ জড়িত। ডাক্তার, আয়া ও নার্সসহ সবাই জড়িত। ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক ও ডাক্তাররাও রেফারেল ফি’র সঙ্গে জড়িত। কিন্তু সারা জীবনেও আমি এগুলো করিনি। এটা কেন দরকার হবে? রোগীর সঙ্গে চিকিৎসকের সম্পর্কটা বিশ্বাসের হলে এগুলো কোনোদিন দরকার পড়বে না।

চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফারেল ফি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখানে লেন্সের ব্যবসা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল। বিদেশি লেন্সের কথা বলে সন্ধ্যায় এসব পয়সা ভাগ করা হতো।

আগে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা হতো উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীর একটু মাথা ব্যথা হলেই সিটি স্কান, এমআরই দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় অনেক সার্জারি হয়। আর এতে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। এমনকি মৃত্যুও হয়।

এএএম/এমআইএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।