লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় ৫৫ শতাংশই দায়ী বন্ধু-সহপাঠী: গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯:০৮ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

দেশে লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা দিন দিন ভয়াবহ আকারে বাড়ছে। আর এ লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার জন্য নির্যাতনের শিকার শতকরা ৫৫ দশমিক ২০ ভাগই বন্ধু বা সহপাঠীকে দায়ী করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, সমাজে শতকরা ৩৯ ভাগ কিশোরী মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, এছাড়াও ৩২ ভাগ শারীরিক নির্যাতন, ১৪ ভাগ যথাক্রমে যৌন এবং অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল সিক্স সিজনে এডুকো বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কিশোরীদের ওপর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা এবং তার প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের সেক্রেটারি নাছিমা আক্তার জলি, জেন্ডার এক্সপার্ট শীপা হাফিজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সোশ্যাল ওয়ার্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কিশোরীদের ওপর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে ঢাকা শহর, ময়মনসিংহ ও ঠাকুরগাঁও জেলায় এ গবেষণা পরিচালনা করে অ্যাডুকো বাংলাদেশ।

গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ৫৪ দশমিক ৯ ভাগ উত্তর দাতারা মনে করে বাল্যবিয়ে হলো সবচেয়ে ভয়াবহ প্রকারের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা। শতকরা ৫৫ দশমিক ২০ ভাগ উত্তরদাতা বন্ধু বা সহপাঠীকে, ৪১ দশমিক ৮০ ভাগ উত্তরদাতা প্রতিবেশীকে এবং ২৯ দশমিক ৭০ ভাগ উত্তরদাতা নিকটতম আত্মীয়কে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার জন্য দায়ী করে।

এসময় এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদ বলেন, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা আমাদের কিশোরীদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যার ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হয়। এডুকো বাংলাদেশ তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এ সব কিশোরীদের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নে জন্য মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, শিশুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি অনলাইন নির্যাতনও বেড়ে যাচ্ছে অনেক। তার কারণ হিসেবে অধিক পরিমাণ ডিভাইসের ব্যবহার দায়ী।

অনুষ্ঠানে এডুকোর কিশোর-কিশোরী ক্লাবের প্রেসিডেন্ট আনিকা বলেন, আমার বিয়ে আমিই প্রতিরোধ করেছি ১০৯৮ এ কল করার মাধ্যমে। আমি এখন ব্যবসা করে আয় করি এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছি। এখন আমার পরিবারে আমার মতামত গুরুত্ব দেন এবং ভবিষ্যতে আমি আরও ভালো করতে পারবো বলে আমার পরিবার বিশ্বাস করে। আমি চাই আমার মতো সব মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুন্দর জীবন গড়ার সুযোগ পাক।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সংস্থার বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি, গবেষক, গবেষণায় অংশগ্রহণকারী কিশোরী এবং বিভিন্ন মিডিয়ার প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিরা এডুকো বাংলাদেশের শিশুদের উন্নয়ন ও বিকাশে কর্যক্রমসমূহ নিয়ে তাদের মূল্যবান মতামত ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা দেন।

এএএম/এমআইএইচএস/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।