জম্মু-কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, আহত ৭ ভারতীয় সেনা
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের কিস্তওয়ার জেলায় বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সাতজন ভারতীয় সেনা আহত হয়েছেন। দুর্গম এলাকায় অবস্থান নেওয়া বন্দুকধারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
সূত্র জানায়, কিস্তওয়ারের চাত্রু এলাকায় অভিযানে অংশ নেওয়া সেনাদের লক্ষ্য করে বন্দুকধারীরা গুলি চালান। সেনারা পাল্টা জবাব দিলে তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়। পরে আহত সেনাদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর জম্মুভিত্তিক হোয়াইট নাইট কোর এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ত্রাশি-আই’। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে অভিযানটি শুরু হয়।
হোয়াইট নাইট কোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, রোববার (১৮ জানুয়ারি) চলমান যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছিল। সেসময় চাত্রুর উত্তর-পূর্বে সোনার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকধারীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। ঘেরাও আরও জোরদার করতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এ কাজে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
কর্মকর্তাদের মতে, তল্লাশি অভিযানের একটি দল দুই থেকে তিনজন ‘বিদেশি বন্দুকধারীদের’ একটি দলের মুখোমুখি হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারা পাকিস্তানভিত্তিক জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) সংগঠনের সদস্য। তারা নির্বিচারে গুলি চালানোর পাশাপাশি ঘেরাও ভাঙার চেষ্টা করে কয়েকটি গ্রেনেডও নিক্ষেপ করে।
এর জবাবে সেনারা পাল্টা হামলা চালায়। পরে সেনাবাহিনী, সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও পুলিশের অতিরিক্ত সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘেরাও আরও শক্ত করে। কর্মকর্তারা জানান, কিছু সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে গুলিবিনিময় চলতে থাকে।
অভিযান দ্রুত শেষ করতে ড্রোনসহ উন্নত নজরদারি সরঞ্জাম ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।
চলতি বছরে জম্মু অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনী ও বন্দুকধারীদের মধ্যে এটি তৃতীয় সংঘর্ষ। এর আগে জানুয়ারির ৭ ও ১৩ তারিখে কাঠুয়া জেলার বিলাওয়ার এলাকার কাহোগ ও নাজোটে অরণ্যে দুটি পৃথক সংঘর্ষ হয়।
গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর উদমপুর জেলায় বন্দুকযুদ্ধে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ঘন জঙ্গল ও অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বন্দুকধারীরা তখন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
সূত্র: এনডিটিভি
এসএএইচ