চিলিতে ভয়াবহ দাবানলে নিহত ১৯, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:২৫ এএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
রোববার (১৮ জানুয়ারি) চিলির কনসেপসিওনে দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন স্থানীয় দমকলকর্মীরা/ ছবি: এএফপি

লাতিন আমেরিকার দেশ চিলির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সর্বশেষ হতাহতের এই তথ্য জানিয়ে নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজধানী সান্তিয়াগো থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার (৩০০ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে টানা দুই দিন ধরে জ্বলছে আগুন। প্রবল বাতাস ও গরম আবহাওয়ার কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এই দাবানলে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো শহরের ২৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মাতিয়াস সিদ ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ভোর ২টা ৩০ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের ঘূর্ণিঝড়ের মতো অবস্থা তৈরি হয়, যা নিচের শহরের ঘরবাড়ি গ্রাস করে নেয়।

তিনি আরও বলেন, আমরা শরীরের কাপড় ছাড়া কিছুই নিতে পারিনি। আরও ২০ মিনিট থাকলে আমরা পুড়ে মারা যেতাম।

ঘটনার পর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি, ছাই হয়ে যাওয়া পিকআপ ট্রাক ও গাড়িতে ভরা এক ভয়ার্ত, জনশূন্য নগরী।

পেনকো শহরেই এখন পর্যন্ত অধিকাংশ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন শহরটির মেয়র রদ্রিগো ভেরা।

প্রতিবেশী ছোট বন্দর শহর লিরকেনেও পরিস্থিতি ছিল সমান ভয়াবহ। প্রায় ২০ হাজার জনসংখ্যার এই শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আগুন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে।

৫৭ বছর বয়সী আলেহান্দ্রো আরেদন্দো এএফপিকে বলেন, অনেক মানুষ সমুদ্র সৈকতে দৌড়ে গিয়ে আগুন থেকে প্রাণে বেঁচেছেন। কিছুই আর দাঁড়িয়ে নেই।

রোববার রাতে লিরকেন শহরের রাস্তায় সেনারা টহল দিচ্ছিলেন। কারফিউ জারি থাকলেও, কিছু বাসিন্দাকে টর্চলাইট হাতে ধ্বংসস্তূপ পরিষ্কার ও আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

জরুরি অবস্থা

প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিচ নুবলে ও বায়োবিও অঞ্চলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দক্ষিণ গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন উচ্চ তাপমাত্রার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার দমকলকর্মী দাবানল নেভাতে লড়াই করছেন।

এই জরুরি আদেশের ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা যাবে।

প্রেসিডেন্ট বোরিচ পরিস্থিতি তদারকির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত শহর কনসেপসিওনে যান। তিনি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরগুলোতে রাতের কারফিউ ঘোষণা করে সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন।

রোববার সন্ধ্যায় তিনি সান্তিয়াগোতে ফিরে গিয়ে জানান, দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সোমবার প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট হোসে আন্তোনিও কাস্তের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, কঠিন সময়ে চিলি ঐক্যবদ্ধ। আমাদের সরকার ও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট একসঙ্গে কাজ করবেন।

আরও তাপ ও বাতাসের আশঙ্কা

জাতীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রতিক্রিয়া সংস্থার পরিচালক আলিসিয়া সেব্রিয়ান জানান, সবচেয়ে বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বায়োবিও অঞ্চলের পেনকো ও লিরকেন শহর থেকে। এই দুই শহরের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।

বায়োবিও অঞ্চলের বন সংরক্ষণ সংস্থার প্রধান এসতেবান ক্রাউসে বলেন, রোববারের (১৮ জানুয়ারি) আবহাওয়া দমকলকর্মীদের জন্য প্রতিকূল ছিল। উচ্চ তাপমাত্রা ও প্রবল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ-মধ্য চিলিতে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশটিতে চরম আবহাওয়া, খরা ও বন্যার মতো দুর্যোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সান্তিয়াগোর উত্তর-পশ্চিমে ভিনা দেল মার শহরের কাছে একসঙ্গে কয়েকটি দাবানল শুরু হয়। সে ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত ও প্রায় ১৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: এএফপি

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।