শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য
শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এক বক্তব্যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে শিশুরা অনবরত স্ক্রলিং, উদ্বেগ ও অন্যদের সঙ্গে তুলনার এক ক্ষতিকর জগতে ঢুকে পড়ছে।
তিনি জানান, সরকার এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। এরই অংশ হিসেবে ইনফিনিট স্ক্রলিংয়ের মতো ফিচার এবং কোন বয়সে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে দেওয়া হবে—সে বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
লেবার সরকার বলেছে, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা কার্যকর হবে কি না এবং এমন নিষেধাজ্ঞা কীভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে—তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা খতিয়ে দেখা হবে।
এ লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রীরা অস্ট্রেলিয়া সফর করবেন। গত মাসে অস্ট্রেলিয়া প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।
তবে যুক্তরাজ্য সরকার এখনো নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা ঠিক করেনি। তারা বলেছে, নির্দিষ্ট বয়সের নিচে শিশুদের জন্য নিষেধাজ্ঞা এবং বয়স যাচাই আরও কঠোর করার বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে।
বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও বিকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায়।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা এআই দিয়ে নগ্ন ছবি তৈরি করার টুল নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছে এবং শিশুদের নগ্ন ছবি দেখা বা শেয়ার করা ঠেকাতে কাজ করছে।
এর আগে চালু হওয়া অনলাইন সেফটি অ্যাক্টের ফলে শিশুদের মধ্যে বয়স যাচাইয়ের হার বেড়েছে এবং পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রবেশ কমেছে বলে সরকার জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, শৈশব মানে অপরিচিত মানুষের বিচার বা লাইক পাওয়ার চাপ নয়। কিন্তু অনেক শিশুর জন্য আজ শৈশব মানে অন্তহীন স্ক্রলিং আর মানসিক চাপ।
তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে সব বিকল্পই খোলা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম