যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের দাবি ভুয়া, জামিনে মুক্ত ইরানের সেই এরফান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৪:৫৮ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জামিনে মুক্ত ইরানের সেই এরফান/ ফাইল ছবি: এপি-ইউএনবি, হেনগাও

যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের দাবি ভুয়া প্রমাণ করে অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন ইরানের সেই আলোচিত বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানি। তার আইনজীবী বার্তা সংস্থা এএফপি’কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র যখন দাবি করছিল, তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে, ঠিক সেই সময়েই তেহরান স্পষ্ট করে জানায়- এরফানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের কোনো রায় হয়নি।

২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জামিনে মুক্তি পান বলে জানান তার আইনজীবী আমির মৌসাখানি। তিনি বলেন, ‘এরফান মুক্তির সময় নিজের সব জিনিসপত্র, এমনকি মোবাইল ফোনও ফেরত পেয়েছেন।’ দুই বিলিয়ন তোমানের (প্রায় ১২ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার) বিপরীতে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ইরানে ব্যাপক বিক্ষোভ চলাকালে এরফানকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে তেহরানের অদূরে কারাজ এলাকার একটি আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।

আরও পড়ুন>>
এরফানকে শেষবার দেখতে ১০ মিনিট সময় পাচ্ছে পরিবার: রিপোর্ট
ইরানে বিক্ষোভে গিয়ে ফাঁসির মুখে কে এই এরফান সোলতানি?
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সার্বিয়ান নেতা

ইরানের বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এরফানের বিরুদ্ধে ইসলামী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ফার্সি ভাষার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দাবি করেছিল, এরফানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে পরে ইরানের বিচার বিভাগ সেই দাবি নাকচ করে জানায়, তার মামলার তদন্ত এখনো চলমান এবং যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রযোজ্য নয়।

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২৮ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে সহিংস রূপ নেয়। তাদের ভাষায়, এতে হত্যাকাণ্ড ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, এই দুই দেশ ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ উসকে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছে, বিশেষ করে ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চরমে পৌঁছানোর সময়।

তেহরান স্বীকার করেছে, বিক্ষোভ চলাকালে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তবে সরকারের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ পথচারী, আর সহিংসতার জন্য দায়ী ছিল ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’।

অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, তারা ৬ হাজার ৭১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে, যাদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী।

সূত্র: এএফপি
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।