যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধের ঝুঁকি কি কেটেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:০৭ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী/ ফাইল ছবি: মার্কিন নৌবাহিনী

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়েছে কি না এখন প্রশ্ন আর এই নেই। মূল প্রশ্ন হলো—উত্তেজনা বাড়ার আগেই সেই কূটনীতি কি যথেষ্ট দ্রুত এগোতে পারবে।

ইরানের এক কর্মকর্তা আল–জাজিরাকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরবর্তী দফার আলোচনা চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ওমানে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আপাতত এই আলোচনায় অন্য কোনো আঞ্চলিক দেশকে যুক্ত করা হচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক দেশগুলোকে আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত কোনো ধরনের বাছবিচারের মানসিকতা থেকে নয়; বরং অনেক পক্ষ যুক্ত হলে আলোচনা ‘গুরুত্বপূর্ণ দরকষাকষির বদলে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে’ পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই আশঙ্কা থেকেই এমন অবস্থান নিয়েছে তেহরান। আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কাঠামো স্থিতিশীল করতে চায় ইরান।

আরও পড়ুন>>
রণতরীর দিকে ধেয়ে আসছিল ইরানের ড্রোন, গুলি করে নামালো যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর ‘ধাওয়া’
ইরানের সঙ্গে আলোচনার কথা নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প

তবে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাদের মতে, এই মুহূর্তে তারা আলোচনার সুবিধাদাতা না হলেও ভবিষ্যতের কোনো সমঝোতার সম্ভাব্য নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংকটের প্রভাব সরাসরি এসব দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত।

এটি ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির কাঠামো থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন এক বাস্তবতা। তখন আলোচনার ভিত্তি ছিল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রিক। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে উত্তেজনা মূলত সামরিক রূপ ধারণ করেছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলো আর কেবল পর্যবেক্ষক নয়; সংঘাত নিয়ন্ত্রণ, উত্তেজনা কমানো এবং সংকট ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোয় তাদের সরাসরি কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও সেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত কয়েক দিনে ইরান ও বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশের মধ্যে যোগাযোগ বেড়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি ৩০ জুন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মস্কো সফর করেন। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার ইস্তাম্বুলে আলোচনা করেন।

এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন জাসিম আল থানি সপ্তাহান্তে তেহরান সফর করেন। এরপর লারিজানি প্রকাশ্যে জানান, একটি কাঠামোবদ্ধ আলোচনার পথরেখা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।

একাধিক সূত্রের মতে, এখন যে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, তা কোনো অস্থায়ী বা আংশিক সমঝোতা নয়; বরং একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে যাওয়ার রোডম্যাপ।

তবে ওয়াশিংটন এখনো কৌশলগত অনিশ্চয়তা বজায় রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, ‘ইরান আমাদের সঙ্গে কথা বলছে। দেখা যাক আমরা কিছু করতে পারি কি না, নইলে দেখা যাবে কী হয়।’ এই বক্তব্যে কূটনীতির পাশাপাশি চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিতও রয়েছে।

যুদ্ধের ঝুঁকি পুরোপুরি কেটে গেছে?

না। তবে আপাতত তা কিছুটা পিছিয়েছে।

ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর বা পাতলা করার মতো আস্থা–গঠনের উদ্যোগও মূল বিরোধগুলো মেটাতে পারছে না। সবচেয়ে বড় অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক প্রতিরোধ কৌশল।

মূল দরকষাকষি এখানেই। যুক্তরাষ্ট্র এখন কেবল ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয়। আর ইরানও এমন কোনো সমঝোতা চায় না, যা একটি মাত্র প্রেসিডেন্সির ওপর নির্ভরশীল বা সহজেই বাতিলযোগ্য। উভয় পক্ষই খতিয়ে দেখছে—গঠনমূলক ছাড়ের বিনিময়ে গঠনমূলক নিশ্চয়তা আদান–প্রদান সম্ভব কি না। বাকি সবই গৌণ।

এই মুহূর্তে কূটনীতি চলছে, যুদ্ধ আপাতত পিছিয়েছে, আর আলোচনার দরজা খোলা আছে। কিন্তু সেটি কতদিন খোলা থাকবে, তা নির্ভর করবে কাঠামোর পর বাস্তব বিষয়বস্তু আসে কি না—তার ওপর।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।