ইরানে বিক্ষোভ পরবর্তী অভিযানে সংস্কারপন্থি মানসুরিকে গ্রেফতার
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সংগঠন রিফর্মিস্টস ফ্রন্টের প্রধান আজার মানসুরিকে গ্রেফতার করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)। এছাড়া নতুন করে গ্রেফতার হয়েছেন চারজন মানবাধিকার কর্মী। তারা ১৭ জন বিশিষ্ট অ্যাক্টিভিস্টের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে ইরানে একটি ‘স্বচ্ছ ও স্বাধীন গণভোটের’ দাবি জানিয়েছিলেন।
আজার মানসুরি ইসলামিক ইরান পিপল পার্টির মহাসচিব। তিনি বিক্ষোভে নিহতদের মৃত্যুকে ‘মর্মান্তিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। একই সঙ্গে কোনো কিছুই এমন হত্যাকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। তবে তিনি কখনোই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগ দাবি করেননি।
সরকারের বাইরে থাকা সংস্কারপন্থি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে রিফর্মিস্টস ফ্রন্টের রাজনৈতিক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আসঘরজাদেহ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামির আমলে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসেন আমিনজাদেহকং গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটির আরও অন্তত দুই শীর্ষ নেতাকে এ সপ্তাহে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ মূলত নিরাপত্তা বাহিনীর বিক্ষোভ দমন পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি হিসাবে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার হলেও বেসরকারি সূত্রগুলো বলছে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি।
তেহরানের প্রসিকিউটর কার্যালয় দাবি করেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ‘সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’ করেছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যোগসাজশে কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট, সংবিধানের বিরোধিতা এবং গোপন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ঘোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, যারা ভেতর থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেয় তারা জায়নবাদী শাসন ও আমেরিকার সঙ্গে একমত। তিনি অভিযুক্তদের ‘দুর্ভাগা’ আখ্যা দিয়ে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে এক বিবৃতিতে আজার মানসুরি বলেন, ‘এই প্রিয় মানুষগুলোর রক্তকে বিস্মৃত হতে দেওয়া হবে না। সত্য উদঘাটনের জন্য লড়াই করা আমাদের মানবিক দায়িত্ব।’ একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের পক্ষে নন।
অন্যদিকে, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী নার্গিস মোহাম্মদীকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বিক্ষোভের ঘটনা তদন্তে একটি কমিশন গঠন করলেও বিশ্লেষকদের মতে, আইআরজিসির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার মতো বাস্তব ক্ষমতা তার নেই। তার সমর্থকদের গ্রেফতার সেই দুর্বলতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মাত্র ৪৯.৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির মধ্য দিয়ে পেজেশকিয়ান ১ কোটি ৬৪ লাখ ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।
সূত্র:দ্য গার্ডিয়ান
কেএম