কাশ্মীরে প্রথমবার ডিসেম্বরে ফুটেছে টিউলিপ, ফুলভিত্তিক পর্যটন বাড়ার আশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৫৪ পিএম, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
কাশ্মীরে প্রথমবার ডিসেম্বরে ফুটলো টিউলিপ

কাশ্মীরে টিউলিপ উৎপাদনে বড় ধরনের সাফল্য এসেছে। এরফলে সেখানে ফুলের মৌসুম দীর্ঘ হবে। এতে কাশ্মীরের ফুলভিত্তিক পর্যটন আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শ্রীনগরের শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপকরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষামূলক বাগানে শীতকালে অর্থাৎ মৌসুমের প্রায় চার মাস আগেই টিউলিপ ফুল ফুটেছে।

ফ্লোরিকালচার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ইমতিয়াজ নাজকি বলেন, আমরা সফলভাবে ডিসেম্বরে টিউলিপ ফুটাতে পেরেছি। ৪ হাজার বাল্ব রোপণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজারই ফুল দিয়েছে। এটি সম্ভব হয়েছে ‘বাল্ব প্রোগ্রামিং’ ও ‘ফোর্সিং’ প্রযুক্তির মাধ্যমে।

ফ্লোরিকালচারে ‘বাল্ব প্রোগ্রামিং’ হলো এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে তাপমাত্রা, আলো, রোপণের সময়সূচি ও বৃদ্ধির ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট সময়ে ফুল ফোটানো হয়। আর ‘ফোর্সিং’ পদ্ধতিতে পরিবেশগত ও রাসায়নিক উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে গাছকে তার স্বাভাবিক মৌসুমের বাইরে ফুল দিতে বাধ্য করা হয়।

এই দুই প্রযুক্তির মাধ্যমে বড়দিন, নববর্ষ ও ভালোবাসা দিবসের মতো বিশেষ সময়ে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ফুল উৎপাদন সম্ভব।

নেদারল্যান্ডসে এই প্রযুক্তি আগে থেকেই ব্যবহৃত হলেও কাশ্মীর উপত্যকায় এটি প্রথমবারের মতো সফলভাবে প্রয়োগ করা হলো।

তিনি বলেন, এই সাফল্য কাশ্মীরের ফুলভিত্তিক পর্যটন সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখবে। এখন বড় উদ্যোক্তাদের এগিয়ে এসে এটিকে বাস্তব রূপ দিতে হবে।

সাধারণত কাশ্মীরে মার্চের শেষ সপ্তাহে টিউলিপ ফুটতে শুরু করে এবং প্রায় এক মাস থাকে। এটি স্থানীয় ও পর্যটকদের জন্য বড় আকর্ষণ। গত বছর শ্রীনগরের টিউলিপ বাগানে প্রায় ৮ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন।

নাজকি বলেন, পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হলো স্থানীয়ভাবে টিউলিপ বাল্ব উৎপাদন। বর্তমানে কাশ্মীরকে বেশিরভাগ বাল্ব নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করতে হয়।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।