অন্তর্বর্তী নির্বাচন
অভিশংসন এড়াতে ট্রাম্পের ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বিল পাস
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট) নামে একটি নতুন বিল পাস করেছে। এ বিলের মাধ্যমে নভেম্বরের মার্কিন অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোটদানের জন্য ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণ দেখাতে বাধ্য করা হবে। মূলত ট্রাম্পের অভিশংসন এড়াতেই এ কৌশল নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিলটি মূলত পার্টি-লাইনের ভোটে ২১৮-২১৩ ভোটে অনুমোদিত হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রিপাবলিকান-নেতৃত্বাধীন সিনেটে পাঠানো হবে।
‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ বা ‘সেইভগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিব্লিটি’ নামে পরিচিত এই বিল অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দেখিয়ে যারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারবেন তারাই অন্তর্বর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে। ভোট দেওয়ার সময় ভোটারদের বৈধ ছবিসহ পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছ।
এছাড়া বিলে বলা হয়েছে, নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় যদি এসব নিয়ম অমান্য করা হয় তবে নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিলের পক্ষে রিপাবলিকানদের যুক্তি, এই নাগরিকত্ব যাচাই ভোটার প্রতারণা রোধের জন্য অপরিহার্য। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে অনেকেই অবৈধভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
এদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই বিল মূলত রিপাবলিকানদের সুবিধা নিশ্চিত করবে। বিলটি লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকারে প্রভাব ফেলবে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনি ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার সুযোগ দেবে।
এ বিলের কারণে বিবাহিত নারীরা যারা নাম পরিবর্তন করেছেন তাদের জন্য ভোট দেওয়া কঠিন হবে। আনুমানিক ৬৯ মিলিয়ন নারী ও ৪ মিলিয়ন পুরুষের জন্মসনদ বর্তমান নামের সঙ্গে মেলে না।
হাউসের নির্বাচনি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জো মোরেল বলেছেন, সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট হলো রিপাবলিকানদের ক্ষমতা স্থায়ী করার পরিকল্পনার অংশ। স্পিকার জনসন আমেরিকানদের ভোট দেওয়া কঠিন করতে এবং নির্বাচনের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে রাখতে চাইছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় নির্বাচনে ভোটার প্রতারণা অত্যন্ত বিরল এবং অ-মার্কিন নাগরিকরা এরই মধ্যে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রেনান সেন্টার ফর জাস্টিস রিপোর্ট অনুযায়ী, লক্ষ লক্ষ আমেরিকান নাগরিকের কাছে পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রয়োজনীয় নথি সহজলভ্য নয়।
কংগ্রেস ব্ল্যাক ককাস এই বিলকে ভোটাধিকার দমন আইন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম প্রতিনিধি রাশিদা তালিব বলেছেন, এই বিল হলো নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার সরাসরি চেষ্টা।
সূত্র:নিউজ ইন্টারন্যাশনাল
কেএম