১৯৬৭ সালের পর প্রথম

ফিলিস্তিনের বহু এলাকা ইসরায়েলের ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:০৪ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পশ্চিম তীর দখলে আইন পাসের পথে ইসরায়েল/ ফাইল ছবি: এপি, ইউএনবি

ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের (ওয়েস্ট ব্যাংক) বিস্তীর্ণ এলাকাকে ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে নিবন্ধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইসরায়েল সরকার। ১৯৬৭ সালে অঞ্চলটি দখলের পর এই প্রথম এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কেএএন এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে।

সংবাদের তথ্য মতে, প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছেন কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ।

সরকারি সিদ্ধান্তের আগে দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, প্রাথমিক লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে এরিয়া সি-এর ১৫ শতাংশে ধাপে ধাপে বসতি স্থাপন।

১৯৯৫ সালের ওসলো–২ চুক্তি অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের এরিয়া-এ সম্পূর্ণ ফিলিস্তিনি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং এরিয়া বি ফিলিস্তিনি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণে হলেও এর নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে ইসরায়েল। অন্যদিকে এরিয়া সি এর অধীনে থাকা পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে যে-সব জমির অন্য মালিকানা প্রমাণিত নয় সেগুলোকে রাষ্ট্রীয় জমিতে রূপান্তর করা হবে। এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে আইন প্রয়োগের ঘোষণা ছাড়াই ইসরায়েল ভূমির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে।

ওসলো–২ চুক্তি অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ কেবল এরিয়া এ ও বি-তে ভূমি নিবন্ধন করতে পারে; এরিয়া সি-তে তা নিষিদ্ধ। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ইসরায়েলি সংস্থা (কোগাট)এরিয়া সি-তে জমি নিবন্ধন ও মালিকানা তদারকির দায়িত্ব নেবে। এতে বিক্রয় অনুমতি দেওয়া, ফি আদায় ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এই পদক্ষেপটি গত সপ্তাহে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা অনুমোদিত একাধিক ব্যবস্থারই ফল। এর প্রধান লক্ষ্য পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং তেল আবিবের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে-পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতকারীদের কাছে জমি বিক্রি নিষিদ্ধকারী আইন বাতিল, জমির রেকর্ড উন্মুক্ত করা। এর মাধ্যমে হেবরনের কাছের একটি বসতি এলাকায় নির্মাণ অনুমতির ক্ষমতা ফিলিস্তিনি পৌরসভা থেকে সরিয়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের হাতে দেওয়া হবে।

২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা এই পদক্ষেপগুলোকে—হত্যা, গ্রেফতার, বাস্তুচ্যুতি ও বসতি সম্প্রসারণসহ—অঞ্চলটির আনুষ্ঠানিক সংযুক্তিকরণের (অ্যানেক্সেশন) প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক মতামতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সব বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানায়।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।