প্রশান্ত ও ক্যারিবীয় জলসীমায় আবারও মার্কিন হামলা, পাঁচ মাসে নিহত ১৩৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:২৮ এএম, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদক পাচারের সন্দেহে তিনটি মাছ ধরার নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। এতে নৌযানগুলোতে থাকা মোট ১১ জন নিহত হয়েছে। লাতিন অঞ্চলের জলসীমার নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড এসব তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে নৌযানগুলো পরিচিত মাদক পাচার রুট দিয়ে চলাচল করছিল এবং মাদক পাচার কার্যক্রমে জড়িত ছিল। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি সাউদার্ন কমান্ড।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে থাকা প্রথম নৌযানে ৪ জন, দ্বিতীয় নৌযানে ৪ জন এবং ক্যারিবীয় সাগরে থাকা তৃতীয় নৌযানে ৩ জন নিহত হয়। তবে মার্কিন বাহিনীর কেউ হতাহত হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

তথাকথিত মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে সাউদার্ন কমান্ড। মার্কিন বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক এই হামলার আগে গত শুক্রবার ক্যারিবীয় সাগরে একটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একটি গোপন আইন মোতাবেক এসব অভিযান পরিচালনা করে আসছে। মাদকবিরোধী অভিযানের জন্য ২০টির বেশি মাদক চক্র ও সন্দেহভাজন পাচারকারীকে ‘শত্রু’ হিসেবে সন্ত্রাসী কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এর ভিত্তিতেই প্রাণঘাতী হামলাগুলো চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব হামলা নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞ ও কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি বা কংগ্রেসের অনুমোদন নেয়নি। ফলে এসব হামলা বেসামরিক ব্যক্তিদের হত্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

গত সেপ্টেম্বরের এক ঘটনায় অভিযোগ ওঠে, একটি সন্দেহভাজন নৌযানে প্রথম দফা হামলার পরও যারা জীবিত ছিলেন, তাদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে আবার হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ ওঠে এবং কংগ্রেসীয় তদন্ত শুরু হয়।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের আগে পর্যন্ত অবৈধ মাদক পাচার মোকাবিলার দায়িত্ব ছিল মূলত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও মার্কিন কোস্ট গার্ডের ওপর। তখন মাদক পাচারকারী ও কার্টেল সদস্যদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হতো। কোস্ট গার্ড এখনো পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার ছাড়াই মাদকবাহী নৌযান আটক ও মাদক জব্দ করছে।

কে এম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।