ইরান-মার্কিন উত্তেজনা
কাতার থেকে সেনা প্রত্যাহার, হামলার বিরোধিতায় কংগ্রেস সদস্যরা
ইরানে হামলা ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি থেকে শত শত মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের একাধিক অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরাক, সিরিয়া, কুয়েত, সৌদি আরব, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ঘাঁটিগুলোতে এখনও মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিরোধিতা করেছেন মার্কিন দুই কংগ্রেস সদস্য। এই দুই সদস্য হচ্ছেন জশ গটহাইমার ও মাইক ললর। প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিক্রিয়া সক্ষমতাকে দুর্বল করবে। একই সঙ্গে কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি ও রো খানা যে ওয়ার পাওয়ার্স রেজ্যুলেশন উত্থাপন করেছেন তাতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা এবং তার জবাবে তেহরানের পাল্টা আঘাতের হুমকির কারণে এটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হতে পারে। মার্কিন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, হামলা হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জাতিসংঘে ইরানের মিশন প্রধান সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর আক্রমণ হলে এ অঞ্চলে শত্রু শক্তির সব ঘাঁটি, স্থাপনা ও সম্পদ বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য যে-কোনো অনিয়ন্ত্রিত পরিণতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ ও সরাসরি দায়িত্ব নিতে হবে।
ইরান ও আশপাশের অঞ্চল তত্ত্বাবধান করা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, কাতারের আল উদেইদ ঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি, যেখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা সদস্য মোতায়েন রয়েছে
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
কেএম