পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সোমালিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:১২ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ছবি: পাকিস্তান আইএসপিআর।

পাকিস্তানের কাছ থেকে ২৪টি জে-এফ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার জন্য আলোচনা করছে সোমালিয়া। বিদেশি গণমাধ্যমের বরাতে রোববার (২২ ফেব্রুয়রি) এমন তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সোমালি বিমান বাহিনীর কমান্ডার মোহামুদ শেখ আলির ইসলামাবাদ সফরের পর আলোচনা গতি পায়। ১৯৯১ সালে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ভেঙে পড়ার পর থেকে কার্যত ধ্বংস হয়ে যাওয়া ফিক্সড-উইং যুদ্ধ সক্ষমতা পুনর্গঠনের তাগিদ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমালিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের আকাশসীমা সোমালিয়াদের হাতেই সুরক্ষিত থাকতে হবে। তিনি এ ক্রয় প্রক্রিয়াকে কেবল অস্ত্র কেনা নয়, বরং রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ মানেই ভূখণ্ড, বাণিজ্যপথ এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী রাজা হায়াত হাররাজ সম্ভাব্য চুক্তির আর্থিক দিক তুলে ধরে বলেন, কিছু পশ্চিমা বিকল্প প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হলেও সেগুলোর দাম জেএফ-১৭–এর তুলনায় তিনগুণেরও বেশি। প্রতি জেএফ-১৭-এর আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৪ কোটি ডলার, যা সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী সমাধান।

ইসলামাবাদভিত্তিক এক বিশ্লেষক বলেন, জেএফ-১৭-এর আকর্ষণ কেবল পারফরম্যান্স নয়; বরং কম দাম, অস্ত্র সংযোজনের নমনীয়তা, প্রশিক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং তুলনামূলকভাবে কম রাজনৈতিক শর্ত—এসব মিলিয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ।

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার কমোডর আদিল সুলতান বলেন, পিএএফ তুলনামূলকভাবে অনেক ব্যয়বহুল পশ্চিমা ও রুশ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে উচ্চতর সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, যা এই বিমানকে বিভিন্ন দেশের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতা শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সোমালিয়ার সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ হবে। এর মাধ্যমে দেশটি তার দীর্ঘ উপকূলরেখা ও অভ্যন্তরীণ ভূখণ্ডে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্রয় সম্পন্ন হলে আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের নিরাপত্তা চিত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মতো দেশের ওপর সোমালিয়ার নির্ভরতা কমবে এবং আকাশসীমায় পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।

সূত্র: জিও নিউজ

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।