আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০: রিপোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা/ ছবি: এএফপি

আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জনে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার খবরে এমন দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসলামাবাদ। অন্যদিকে, কাবুল বলেছে, হামলায় বেসামরিক নাগরিকরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পাকিস্তানের উপ-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ৮০ জনে পৌঁছানোর কথা বলা হয়।

কী বলছে পাকিস্তান?

পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী রোববার ভোররাতে আফগান সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বিমান হামলা চালায়। ইসলামাবাদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক একাধিক হামলার পেছনে জড়িত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘শিবির ও আস্তানা’ লক্ষ্য করে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে প্রাণঘাতী আত্মঘাতী হামলার ঘটনাও রয়েছে।

আরও পড়ুন>>
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের হামলা, প্রতিশোধের হুমকি তালেবানের

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণ কী?
পাকিস্তানের হাত ছেড়ে আফগানিস্তান কেন ভারতমুখী হলো?

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সাতটি ঘাঁটিতে ‘নির্বাচিত অভিযান’ চালানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নাগরিকদের নিরাপত্তা সবার আগে।

রোববার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেন, আফগান সীমান্তে সাম্প্রতিক হামলা ছিল ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রক্ষার ন্যায্য অধিকার’ প্রয়োগের অংশ। তার অভিযোগ, কাবুলকে বারবার সতর্ক করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

আফগানিস্তানের পাল্টা অভিযোগ

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের ‘বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা’ লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও একাধিক বাড়িঘর রয়েছে। কাবুল এই হামলাকে আফগানিস্তানের আকাশসীমা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ ‍মুজাহিদ বলেন, ‘বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে, বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলো অপরাধমূলক কাজ।’ তিনি পাকিস্তানের ৭০ যোদ্ধা নিহতের দাবিকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দেন।

নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাদেশিক পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ খুঁজতে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তেজনা বৃদ্ধি ও সংঘাতের ঝুঁকি

গত বছরের অক্টোবর মাসে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষে বহু সেনা, বেসামরিক নাগরিক ও সন্দেহভাজন যোদ্ধা নিহত হয়। পরে দুই দেশের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সমঝোতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা তাদের ‘শরিয়তসম্মত দায়িত্ব’ এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা হবে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।