টমাহক মিসাইল

শাহজারাহ স্কুলে হামলা: যুদ্ধের শুরুতেই ট্রাম্পের ‘চরম হঠকারিতা’? 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:১৯ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬
ফাইল ছবি

মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষা কিংবা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিসহ নানাবিধ অভিযোগ এনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথবাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। তবে যুদ্ধের প্রথম দিনই যুদ্ধাপরাধের মতো ঘটনা ঘটিয়ে তা ‘এপিক ব্লান্ডারে’ পরিণত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মিনাব শহরে অবস্থিত শাহজারাহ তায়্যিবাহ স্কুলে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রাথমিক সামরিক তদন্তে দেখা গেছে, এ হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর এই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। যুদ্ধের শুরুতেই এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা একটি ‘ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ’ এবং এর দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এক্স বার্তায় জানিয়েছেন, ডাবল-ট্যাপ আমেরিকান টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মিনাবে ১৬৮ জন ছোট ইরানি শিশু নিহত হয়েছে। এটি একটি ক্ষমার অযোগ্য যুদ্ধাপরাধ।

টমাহক মিসাইল কী?

টমাহক মিসাইল হলো এক ধরনের সাবসনিক (শব্দের চেয়ে কম গতি) দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল। সাধারণত যুদ্ধজাহাজ বা সাবমেরিন থেকে ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্রটি নিচু উচ্চতায় উড়ে প্রায় ১,২৫০ থেকে ১,৬০০ কিলোমিটারের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে।

টমাহক মিসাইলের নির্মাতা ও ব্যবহারকারী কারা?

টমাহক মিসাইল তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানি রেইথিয়োন টেকনোলজিস। তবে গত শতাব্দিতে এই মিসাইল প্রথম তৈরি করেছিল জেনারেল ডাইনামিক্স (জিডি)। এই মিসাইলের প্রধান ব্যবহারকারী যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।

‘এপিক ব্লান্ডারে’র কারণ কী?

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে যে, হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করতে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের কর্মকর্তারা পরিসংখ্যানগত দিক থেকে পুরোনো তথ্য ব্যবহার করেছিলেন, যা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি দ্বারা সরবরাহ করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্কুলটি ইতোমধ্যে আইআরজিসি নৌবাহিনী সংলগ্ন ভবনের অংশ হলেও অন্তত নয় বছর ধরে বিদ্যালয় হিসেবে আলাদা করা ছিল। সেখানে রঙিন মুরাল এবং ছোট খেলার মাঠসহ শিক্ষামূলক সুবিধার চিহ্ন স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এছাড়া হামলার সময় স্কুলটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে কোনো প্রমাণ নেই।

যদিও স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদনে এ হামলার জন্য মার্কিন দায় নিশ্চিত করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করার দাবি করেন। তবে মার্কিন সামরিক মুখপাত্ররা জানিয়েছে এ হামলার তদন্ত চলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান/আনাদোলু এজেন্সি/নিউ ইয়র্ক টাইমস

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।