কলকাতার নিউ মার্কেটে নেই বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড়

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০১ পিএম, ১৬ মার্চ ২০২৬
কলকাতার নিউ মার্কেটে নেই বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড়

মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের দোরগোড়ায় খুশির ঈদ। তার আগে জমজমাট কলকাতার নিউ মার্কেট। এই মুহূর্তে বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা এবং বিক্রেতারা। তবে এবারও বাংলাদেশি ক্রেতাদের অভাবে কোথাও যেন তাল কেটেছে শহরের অন্যতম এই ঐতিহ্যবাহী বাজারে।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার ঈদের কেনাকাটায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। চিকিৎসা ভিসায় যারা কলকাতায় এসেছেন, তারাই কিছুটা কেনাকাটা করেছেন। তবে তাদের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হয়েছে চিকিৎসাতেই।

jagonews24.com

তবে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী। তাদের মতে, বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর দুই দেশের সহযোগিতায় দ্রুত ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কাটবে। যদিও চিকিৎসার পাশাপাশি অনেক বাংলাদেশি শেষ মুহূর্তে কিছু কেনাকাটাও সেরে নিচ্ছেন। সব মিলিয়ে আগের তুলনায় শহরে বাংলাদেশিদের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

গত দু’বছর বাদ দিলে একসময় ঈদের আগে বাংলাদেশি ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট থাকতো কলকাতার নিউ মার্কেট। কিন্তু চলতি বছর সেই চেনা ভিড় নেই। ব্যবসায়ীদের কথায়, বাজার খুব ভালোও নয়, আবার খুব খারাপও নয়-মোটামুটি চলছে। মূলত বাংলার বিভিন্ন জেলার ক্রেতা এবং সীমিত সংখ্যক বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে শেষ বেলায় কিছুটা ভিড় জমেছে।

jagonews24.com

নিউ মার্কেটের একটি নামী থ্রিপিসের দোকানের ম্যানেজার চুনরীলাল বলেন, বাজার মোটামুটি আছে। গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশি ক্রেতা কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে তারা মূলত চিকিৎসা ভিসায় এসেছেন। চিকিৎসার পর যা থাকে, তা দিয়েই কিছু কেনাকাটা করেছেন। ফলে আগের মতো বেচাকেনা হয়নি।

তার মতে, দ্রুত ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়া জরুরি। এজন্য ভারত এবং বাংলাদেশ দুই দেশের সরকারকেই আন্তরিক হতে হবে। তিনি আরও জানান, বহু বাংলাদেশি ভ্রমণ ভিসা খোলার অপেক্ষায় আছেন। ভিসা চালু হলে দুই বাংলার ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেই তা মঙ্গলজনক হবে।

অন্য এক ব্যবসায়ীর কথায়, বাজার আগের তুলনায় মোটামুটি। কিন্তু বাংলাদেশি ক্রেতা না এলে নিউ মার্কেটের বেচাকেনা বাড়ে না। কারণ পর্যটকদের কাছে কেনাকাটার জন্য এটাই প্রধান জায়গা। ভিসা বন্ধ থাকলে মানুষ আসবে কীভাবে? তবে আমরা আশাবাদী, খুব শিগগির এই সমস্যার সমাধান হবে।

দোকানপাটে কোথাও কোথাও বাংলাদেশি ক্রেতা দেখা গেলেও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা কার্যত ধুঁকছেন। ফুটপাতের ব্যবসায়ী বিকাশ সিং বলেন, আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ ক্রেতাই বাংলাদেশি। তারা না থাকায় বড় সমস্যায় পড়েছি।

অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কাজের গতি খুব বাড়েনি, তবে আগের তুলনায় মন্থরভাব কিছুটা কমেছে। গত দুবছর বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রায় দেখাই যায়নি, ধীরে ধীরে সেই জট কাটতে শুরু করেছে।

তবে চিকিৎসার পাশাপাশি অনেকেই শেষ মুহূর্তে সেরে নিচ্ছেন ঈদের কেনাকাটা। খুলনা থেকে আসা সেলিম বলেন, ঈদের আগে দেশে ফিরব। খালি হাতে যাওয়া যায় না, তাই কিছু কেনাকাটা করে নিচ্ছি। মারকুইস স্ট্রিটে থাকা বাংলাদেশি জুয়েল জানান, মায়ের চিকিৎসা শেষ হয়েছে, এখন তিনি সুস্থ। দেশে ফেরার আগে পরিবারের কিছু আবদার মেটাতে একটু কেনাকাটা করছি।

jagonews24.com

এদিকে নিউ মার্কেটে এখন ভিড় জমাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারাও। কেনাকাটার ফাঁকেই নিউ মার্কেটের মুক্ত এলাকায় সেরে নিচ্ছেন ইফতার। চারদিকে হরেক রকম ইফতার—বাহারি সরবত, কাটা ফল, ভাজাপোড়া। পাশের হগ মার্কেট থেকে কেউ কেউ কিনে নিচ্ছেন খেজুর, ড্রাই ফ্রুটস, ইত্যাদি। ইফতার শেষে নামাজ, তারপর আবার জমে উঠছে কেনাকাটা। দোকানপাটও খোলা থাকছে অনেক রাত পর্যন্ত।

সব মিলিয়ে গত দুবছরের তুলনায় শহরে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, খুব শিগগির ভ্রমণ ভিসার জটিলতা কাটলে দুই বাংলার মানুষের যাতায়াত আরও বাড়বে—আর সেই সঙ্গে ফিরবে নিউ মার্কেটের সেই চিরচেনা জমজমাট ঈদের বাজার।

ডিডি/টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।