‘ধ্বংসের পথে’ পুরোনো ব্যবস্থা, ‘মাল্টিপোলার’ বিশ্বে ক্ষমতার লড়াই চলছে!
পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা এখন সম্পূর্ণভাবে ‘ধ্বংসের পথে’ রয়েছে এবং নতুন বিশ্ব নেতৃত্বের জন্য তীব্র সংগ্রাম চলছে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে নতুন এই ব্যবস্থা স্থায়ী ও বহু-মুখী (মাল্টিপোলার) বিশ্বের স্থাপন করবে।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রুশ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিষদের এক সভায় এসব মন্তব্য করেছে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরব।
এই সভায় ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে। রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক উল্লেখ করেন, অসামরিক নাগরিক ও তাদের অবকাঠামোর ওপর সামরিক শক্তি ব্যবহার অসম্ভব এবং আজকের দিনে কিছু দেশ নিজেদের পথ হারিয়েছে। কোনো আইনগত ভিত্তি ছাড়াই নানা অঞ্চল দখলের অধিকার তাদের আছে বলে দাবি করছে।
সংঘাতে জড়িত পক্ষকে কূটনৈতিক পথে ফিরিয়ে আনতে মধ্যস্থতা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুত আছে রাশিয়া। ল্যাভরব বলেন, ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে বাধা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তারা গালফ (জিসিসি) সদস্যদের ইরানের বিরোধিতায় প্ররোচিত করছে।’
নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা গঠন
ল্যাভরব বলেন, ‘উদীয়মান নতুন বিশ্বব্যবস্থা গড়তে পুরানো ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে হবে। আমরা আশা করি, এটি একটি স্থায়ী ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে বহু-মুখী (মাল্টিপোলার) বিশ্বের স্থাপন করবে। কিন্তু এই পরিবর্তনটা আপাতত ধ্বংসযজ্ঞের মত মনে হবে।
তিনি যোগ করেন, নতুন বিশ্বের নেতৃত্বের জন্য সংগ্রাম অত্যন্ত তীব্র। এটি জীবন-মৃত্যুর বিষয়। আমরা এটি প্রায় প্রতিদিনই লক্ষ্য করছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনও নিয়মিত লঙ্ঘিত হচ্ছে। যেসব আইন দশকের পর দশক স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা নিশ্চিত করেছিল, তা এখন ক্রমশ ক্ষয় হতে যাচ্ছে।
ল্যাভরব বলেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো অবস্থায় নেই। তবে মস্কো সংলাপের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু আমরা কারো পেছনে দৌড়াবো না।’
তিনি যোগ করেন, আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষা করা। আমরা সংলাপ ও সম্ভাব্য চুক্তির জন্য দরজা খোলা রাখব, কিন্তু কেবল সমান ও পারস্পরিক উপকার ও সুবিধার ভিত্তিতে তা করা হবে। যারা নিজেদের মনোবাসনা বাদ দিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে প্রস্তুত, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে। রাশিয়া পশ্চিমা নেতাদের যেকোনো প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় স্বয়ং সিদ্ধান্ত নেবে।
ল্যাভরব উল্লেখ করেন, ব্রিকস ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন ‘কট্টর সাম্রাজ্যবাদীদের’ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ‘শুধু রাশিয়া ও চীন নয় বরং অন্যান্য ব্রিকস ও এসসিও সদস্য রাষ্ট্রও এবং যে কোনো স্বাধীন শক্তিকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে।’
সূত্র: তাস
কেএম