দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

যুদ্ধবিরতির আলোচনা: মধ্যপ্রাচ্যে আসছে মার্কিন ২ রণতরি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৪৯ পিএম, ১১ এপ্রিল ২০২৬
ছবি: মার্কিন নেভি

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে। পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তুতি চলার মধ্যেও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি নতুন যুদ্ধবিমান ও আক্রমণকারী বিমান এই অঞ্চলে পৌঁছেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ সৈন্য মোতায়েন করা হতে পারে।

এদিকে, মার্চের শেষ দিকে সহযোগী জাহাজসহ বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটি থেকে রওনা হয়ে বর্তমানে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থান করছে।

একইভাবে, মার্চের মাঝামাঝি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এখন প্রশান্ত মহাসাগরে রয়েছে ইউএসএস বক্সার (এলএইচডি-৪)। এটি মার্কিন অ্যামফিবিয়াস অ্যাসল্ট শিপ অর্থাৎ এটি সমুদ্র থেকে স্থলভাগে সেনা, হেলিকপ্টার ও যুদ্ধ সরঞ্জাম নামানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর সঙ্গে মার্কিন ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটও রয়েছে। উভয় নৌবহরের মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগবে।

৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের পারস্পরিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। তার মতে, উভয় পক্ষ প্রায় সব বিতর্কিত বিষয়ের সমাধানে পৌঁছেছে এবং ওয়াশিংটন তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। ট্রাম্পের প্রস্তাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় রাজি এবং যুদ্ধবিরতি হবার ক্ষেত্রে ২ টি পূর্বশর্ত দেওয়া হয়েছিল। এর একটি ৫ নম্বর দফা যেখানে ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত। অন্যটি ৯ নম্বর দফায় থাকা অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স তথা লেবাননে হামলা বন্ধ করা।

অন্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-অনাক্রমণ নীতি মেনে চলা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ, দেশের ভেতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

এদিকে ট্রাম্প জানান, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে সম্মত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো হামলা না হলে তারা ‘প্রতিরক্ষামূলক আক্রমণ’ বন্ধ রাখবে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যৌথ বাহিনীর হামলায় ২০৭৬ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছে ২৬ হাজারের বেশি মানুষ। একই দিনে মিনাবের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।