এবার বাংলাতেও পদ্মফুল ফুটতে চলেছে: মোদী

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:০৫ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
নরেন্দ্র মোদী

দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে সোমবার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়েছে নির্বাচনি প্রচারণা। প্রার্থীরা যেরকম নিজেদের এলাকায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে জনসংযোগ করেছেন, উপস্থিত ছিলেন তারকারাও। একদিকে যেমন ভবানিপুর আসনের তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জী নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, তেমনি এই আসনে প্রচারণা চালিয়ে গেছেন মমতার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী।

মমতা, শুভেন্দুর পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি মমতার ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জী, টলিউড অভিনেতা দেব, রচনা ব্যানার্জী, নুসরাত জাহানসহ একাধিক তারকাকে প্রচারণায় দেখা গেছে।

এদিন ব্যারাকপুরে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেখান থেকে আগাম শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার বার্তা দেন মোদী। তিনি বলেন, আমি যেখানে যেখানে গিয়েছি এবং বাংলার মানুষের মধ্যে যে মেজাজ আমি দেখেছি, তাতে পরিষ্কার যে ৪ মে গণনার পর বিজেপির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমাকে এ রাজ্যেই আসতে হবে। এ কারণে আমার উৎসাহ অনেক বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনে একটা অন্যরকম অনুভূতি লক্ষ্য করছি। এত গরমের পরেও র‍্যালির পরেও বাংলার নির্বাচনে আমি একটুও ক্লান্তি অনুভব করিনি। অনেক জায়গায় আমার রোড শো শেষ হওয়ার পরেও বহু লোক উৎসাহের সঙ্গে অপেক্ষা করছিল। হেলিপ্যাডেও একরকম ছবি ছিল। এই রোড শো আমার জন্য রাজনৈতিক কর্মকান্ড নয়, এটা আমার কাছে তীর্থযাত্রার মতো ছিল।

মোদী বলেন, বাংলার সেবা করা, বাংলাকে সুরক্ষিত রাখা, বাংলার সামনে থাকা বিরাট চ্যালেঞ্জ থেকে বাংলাকে বাঁচানো আমার একটা দায়িত্ব। আর এই দায়িত্ব থেকে আমি কিছুতেই পিছু হটবোনা। এই নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ডাক দিয়ে মোদি বলেন, বিগত দিনে আমরা বিহার এবং ওড়িশ্যাতে সরকার গঠন করেছি, সেখানে পদ্মফুল ফুটেছে। এবার বাংলাতেও পদ্মফুল ফুটতে চলেছে।

নির্বাচনি প্রচারণা থেকে তৃণমূলকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, তৃণমূলের কাছে বাংলার ভবিষ্যতের কোনো রোড ম্যাপ নেই। বাংলাকে কোথায় নিয়ে যাবে, বাংলার মানুষের জন্য কি করবে তৃণমূল এটাও বলে না। কারণ এদের কাছে কোন ভিশন নেই। এই তৃণমূলকে কি আপনারা ভোট দেবেন?

আগামী ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় ও শেষ দফা। এই পর্বে রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২টি আসনে ভোট নেওয়া হবে। এগুলো হলো- নদিয়া (১৭), উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩), দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১), কলকাতা (১১), হাওড়া (১৬), হুগলি (১৮) এবং পূর্ব বর্ধমান (১৬)।

শেষ দফায় প্রার্থীর সংখ্যা ১৪৪৮। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীসহ শাসক দলের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক সেলিব্রেটি প্রার্থীরা যেমন আছেন, তেমনি প্রধান বিরোধী দল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীসহ গেরুয়া শিবিরের একাধিক বিধায়ক এবং সমাজের বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোট ২৩৪৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি উত্তর ২৪ পরগনায় থাকছে ৫০৭ কোম্পানি, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৪০৯ কোম্পানি।

কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী রাজ্য পুলিশের সদস্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগেই বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জগদ্দল বিধানসভার অন্তর্গত জগদ্দল থানার সামনে রোববার রাতে বিজেপি এবং তৃণমূলের দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে, এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল ছোঁড়ে। এমনকি কেন্দ্রীয় বাহিনীর একজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। ওই ঘটনায় তৃণমূলের চার কর্মী সমর্থকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার সকালের দিকে আরামবাগ লোকসভার তৃণমূলের কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মিতালীবাগের গাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এদিন আরামবাগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রোড শোতে যাওয়ার পথে গোঘাটের ভিকদাস এলাকায় বিজেপির দুর্বৃত্তরা মিতালী বাগের গাড়ি দেখে তাতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ডিডি/টিটিএন

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।