পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে কেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৭ আসন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:১২ পিএম, ০৩ মে ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। ২৯৪ আসনের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ক্ষমতাসীন মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের লক্ষ্যে লড়ছে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের ফলাফল আগাম অনুমান করা কঠিন হলেও বিশ্লেষকরা গুরুত্ব দিচ্ছেন ৩৭টি ‘বেলওয়েদার’ আসনের ওপর। এই আসনগুলো দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সামগ্রিক ফলাফলের নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত যে দল এই ৩৭টি আসনের বেশিরভাগ জিতেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করেছে। মোট আসনের প্রায় ১৩ শতাংশ জুড়ে থাকা এই আসনগুলো রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতার কেন্দ্রীয় অঞ্চল, দক্ষিণবঙ্গ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত এসব আসন ভোটের প্রবণতা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবানীপুর, ডায়মন্ড হারবার, আউসগ্রাম, উদয়নারায়ণপুর ও মাগরাহাট পূর্বের মতো আসনগুলো অতীতে বিজয়ী দলের সঙ্গেই ফলাফল মিলিয়েছে।

নির্বাচন বিশ্লেষক ডোরাব সোপারিওয়ালা বলেন, দেশের অন্য কোনো রাজ্যে এত সংখ্যক নির্ভরযোগ্য বেলওয়েদার আসন নেই। পশ্চিমবঙ্গের এই ৩৭টি আসনই ফলাফল বোঝার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসই এই প্রবণতার মূল কারণ। প্রায় পাঁচ দশক ধরে রাজ্যটি মূলত দুটি রাজনৈতিক শক্তির অধীনে ছিল—বামফ্রন্ট এবং পরে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে ভোটারদের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ধারা তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা রাজ্যব্যাপী যে দলকে সমর্থন করে, এই আসনগুলোতেও সেই দলকেই বিজয়ী করে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ১৪৮টি আসন। তাই বেলওয়েদার আসনগুলোর ফলাফল এবারের নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।