বিশ্ববাজারে চাপ কমাতে তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে সৌদি-রাশিয়াসহ ৭ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩:৫৮ পিএম, ০৪ মে ২০২৬
ছবি: ওপেক

ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কারণে বড় সংকটময় মুহূর্ত পার করছে বিশ্বের তেলের বাজার। এই চাপ সামলাতে এবং তেলের ‘বাজারে স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

রোববার (৩ মে) গৃহীত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তেলের উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া ও সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসভুক্ত সাতটি দেশ।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর অবরোধ আরোপ করায় বৈশ্বিক এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ২৮ এপ্রিল ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এমন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বে তেল সরবরাহে ঘাটতি পূরণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

ওপেক প্লাস দেশগুলো জানিয়েছে, জুন মাস থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি শুরু হবে এবং এর বেশিরভাগই আসবে সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, রোববার (৩ মে) সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিদিন ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স আগে দ্য ন্যাশনাল নিউজ ডেস্ককে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য একটি সংকীর্ণ পথ। এই জলসীমা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল রপ্তানি করা হয়।

হির্স বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যে কোনো সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরান প্রণালিটি বন্ধ করার হুমকি দিতে পারে। এই ঝুঁকি আমরা জানতাম।

স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ। এর বেশিরভাগই যায় এশিয়ার দেশগুলোতে।

এদিকে যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতেও পড়েছে। গতকাল রোববার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন গ্যাসের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪.৪৫ ডলারে। ইরানে যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ২.৯৮ ডলার।

কেএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।