নির্বাচনে জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির তাণ্ডব

পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি পশ্চিমবঙ্গ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫৩ এএম, ০৬ মে ২০২৬
তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক অফিসে আগুন দিয়েছে বিজেপি কর্মীরা

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভোট পরবর্তী অশান্তি ও সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটেই চলেছে, যা থামার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপির কর্মী সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করছে।

রাজ্যের গেরুয়া ভক্তদের অতি উৎসাহ, জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, দখল করা থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে নথিপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে।

রাজ্যের সাবেক উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের নিজের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটাতে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় দখল করে গেরুয়া রঙ করে দেওয়া, ভাঙচুর করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

কলকাতায় মমতা ব্যানার্জীর ভাইয়ের স্ত্রীকে দেখে জয় শ্রীরাম স্লোগান দেওয়া, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক তথা মমতা ব্যানার্জীর ভাতিজা অভিষেক ব্যানার্জীর বাড়ি সামনে গিয়েও বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা জয় শ্রী রাম স্লোগান দিয়েছে। কলকাতার কসবায় দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ভোট পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

যদিও রাজ্য পুলিশের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা মিলে কড়া হাতে অশান্তি থামানোর চেষ্টা করছেন।

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে হামলা, অশান্তি পাকানোর অভিযোগ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য রেখেছেন মমতা ব্যানার্জী ও বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

মমতা ব্যানার্জীর দাবি, আমরা যখন জিতেছিলাম আমি বলেছিলাম কারো ওপর যেন অত্যাচার না হয়। বদলা নয় বদল চাই। আমরা সিপিএমের একটাও পার্টি অফিসে হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি। আমি রবীন্দ্র সংগীত এবং নজরুল গীতি গাইতে দিয়েছিলাম। আর বিজেপি ভোটে জয়ের পর থেকেই অত্যাচার শুরু করেছে।

তবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই সহিংসতার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কেউ বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে অসভ্যতামি করে বা কর্দয ভাষা ব্যবহার করে, অথবা দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর বা কেউ টোটো-অটো ইউনিয়ন থেকে অর্থ আদায় করে বা এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকে তাহলে তাদের রেয়াত করা হবে না। পার্টি আমাকে এইটুকু অধিকার দিয়েছে যে তাদেরকে দল থেকে বের করে দেওয়া হবে। প্রশাসনকে বলবো এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।

ডিডি/এমএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।