অ্যাক্সিওস রিপোর্ট
যুদ্ধ শেষের পথে, এক পৃষ্ঠার স্মারক চুক্তির কাছাকাছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধ শেষ করতে এবং বিস্তৃত পরমাণু আলোচনার পরিমিতি নির্ধারণের জন্য এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক নিয়ে চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক চুক্তিটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করবে এবং আরও বিস্তারিত চুক্তির জন্য আলোচনার মেয়াদ ৩০ দিন বর্ধিত করবে।
বুধবার (৬ মে) দুই মার্কিন কর্মকর্তা এবং হোয়াইট হাউজের আলোচনায় পরিচিত অন্য দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তেহরানের কাছ থেকে একটি উত্তর আশা করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদিও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি; তবে আলোচনাগুলো সংঘাত শুরু হওয়ার পর চুক্তির জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পরিবেশ বলে উল্লেখ করেন মার্কিন কর্মকর্তারা। দুই পক্ষ একটি প্রাথমিক চুক্তির অনেকটা কাছে এসেছে।
পরবর্তী আলোচনায় যেসব বিষয় থাকবে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-
১. হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে ট্রানজিট পুনরায় চালু করা
২. ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করা এবং
৩. মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
এই খসড়া শর্তাবলির আওতায় ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে স্থগিতাদেশে রাজি হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং ইরানের জব্দ করা তহবিলের বিলিয়ন ডলার মুক্ত করবে। উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালির সঙ্গে যুক্ত নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করবে।
আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ ও জেনেভা বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে এক্সিওস।
সমৃদ্ধকরণ স্থগিতাদেশের মেয়াদ অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইরান প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ প্রস্তাব করেছিল অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ২০ বছর। প্রতিবেদন অনুযায়ী এমন পর্যায়ে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কমপক্ষে ১২ বছরের মেয়াদের জন্য স্থগিত করা হতে পারে। তবে ভিন্ন এক সূত্র ১৫ বছরকে সম্ভাব্য সমঝোতা হিসেবে দাবি করেছে।
খসড়া চুক্তিতে ইরানের প্রতিশ্রুতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে যে এটি পরমাণু অস্ত্র অর্জন করবে না, অস্ত্রায়ণ-সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে এবং জাতিসংঘের পরিদর্শকদের বর্ধিত পরিদর্শন এবং আকস্মিক পরিদর্শন রয়েছে, তা গ্রহণ করবে।
দুটি সূত্র এক্সিওসকে জানিয়েছে যে, ইরান তার উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত দেশের বাইরে সরিয়ে নিতেও রাজি হতে পারেন, যা তেহরান আগে বিরোধিতা করেছিল।
এ প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোনো চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এক্সিওস বলেছে, আলোচনা ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ পুনঃস্থাপন করতে পারে অথবা সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার বলেছেন যে, একটি বিস্তৃত চুক্তি এখনই সম্পন্ন করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ন্যায্যতা প্রমাণের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য কূটনৈতিক পথ এবং প্রাথমিক ছাড় প্রয়োজন বলে মনে করে ওয়াশিংটন। ইরানি নেতারা শেষ পর্যন্ত একটি চুক্তি মেনে নেবেন কি না সে ব্যাপারেও অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন রুবিও।
কেএম