আকাশসীমায় নিষেধাজ্ঞা, সৌদির চাপেই ব্যর্থ ট্রাম্পের ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’!
ইরানে আবারও হামলা চালাতে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি সৌদি আরব। এতে অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৭ মে) পারস্য অঞ্চলের এক শীর্ষ কূটনীতিকের বরাতে এ সংবাদ প্রকাশ করেছে দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার সকালে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে রিয়াদ। এর পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দেয় যে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান পরিচালনা কিংবা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহার করে অভিযানে সহায়তার অনুমতি দেবে না। বুধবার (৬ মে) এনবিসি নিউজকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।
এর ফলে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি এলাকায় জাহাজ চলাচলে সামরিক পাহারা দেওয়ার কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জানা গেছে, প্রজেক্ট ফ্রিডম মূলত আঞ্চলিক দেশগুলোর আকাশসীমা ব্যবহারের সম্মতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। সৌদি আরবের ভূখণ্ডে বিমান মোতায়েনের সুযোগ যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের আকাশপথ ও নৌ-লজিস্টিক সহায়তাও এ অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয়।
বাহরাইনের বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খুজাই অ্যাসোসিয়েটস এলএলসির ব্যবস্থাপনা অংশীদার আহমেদ খুজাই বলেন, রিয়াদের এই সিদ্ধান্ত দুইভাবে পরিস্থিতি প্রভাবিত করতে পারে।
প্রথমত, এটি ওয়াশিংটনকে পাকিস্তানে মধ্যস্থতা আলোচনা আরও গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
খুজাই বলেন, এতে দায়িত্বশীল শক্তি হিসেবে সৌদি আরবের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হবে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি কমবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে হামলা পুনরায় শুরু করা ইসলামি প্রজাতন্ত্র যদি মনে করে যে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাহলে তারা আরও উৎসাহিত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তার ভাষায়, এমন ধারণা ইরানকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে কিংবা আঞ্চলিক উসকানি বাড়াতে উৎসাহিত করতে পারে। কারণ তারা ধরে নিতে পারে উপসাগরীয় দেশগুলো ওয়াশিংটনকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেই থাকবে।
গভীরতর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, রিয়াদের এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন-উপসাগরীয় সম্পর্কের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মত দেন তিনি।
খুজাই বলেন, সৌদি আরব স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে মার্কিন সামরিক অভিযানে উপসাগরীয় সমর্থন আর স্বয়ংক্রিয় নয়। এই নতুন বাস্তবতা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। কারণ এখন ওয়াশিংটনকে সামরিক প্রয়োজনের পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবের এই সংযত অবস্থান কূটনৈতিক সমাধানের ভিত্তি হয়ে ওঠে কিনা, নাকি অনিচ্ছাকৃতভাবে ইরানের জন্য কৌশলগত সুযোগ তৈরি করে দেয়-সেটির ওপরই ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
কেএম