মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া দেশগুলোকে হরমুজে ‘সমস্যায়’ পড়তে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৫:৪২ পিএম, ১০ মে ২০২৬
মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া/ছবি: প্রেস টিভি

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে অবশ্যই ‘সমস্যার’ মুখোমুখি হতে হবে। রোববার (১০ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।

আকরামিনিয়া বলেন, এখন থেকে যেসব দেশ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করবে, তারা অবশ্যই হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে সমস্যার সম্মুখীন হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অকারণ আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর ইরান তাদের শত্রু ও মিত্রদের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়।

গত মাসের ১৩ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানি জাহাজ ও বন্দর অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর প্রণালিতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ শুরু করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন অবরোধ পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল হওয়া যুদ্ধবিরতি শর্তের লঙ্ঘন ছিল।

তথাকথিত প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে একটি অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক পুনরায় খুলে দেওয়া। তবে বুধবার ট্রাম্প ওই সামরিক অভিযান বন্ধ করতে বাধ্য হন বলে দাবি করে তেহরান। ইরানের মতে, আমেরিকার সমুদ্র দস্যুতা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার বিরুদ্ধে হুমকির মুখে ইরান দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

আকরামিনিয়া বলেন, মার্কিন বাহিনী ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধজাহাজের সহায়তায় হরমুজে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ভাঙার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখোমুখি হয় এবং শক্ত প্রতিরোধের কারণে ট্রাম্প অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা পরিত্যাগ করেন।

আকরামিনিয়া আরও বলেন, এই যুদ্ধ আমাদের হরমুজ প্রণালির ভূরাজনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছে এবং আজ আমরা সমুদ্র ও জলপথ আইন অনুযায়ী প্রণালির ওপর আমাদের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করছি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে একটি নতুন আইনগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ইরান। এর আওতায় এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

এছাড়া সেনাবাহিনীর এই মুখপাত্র দাবি করেন, সাম্প্রতিক অবৈধ যুদ্ধে শত্রুপক্ষ তাদের পূর্বনির্ধারিত কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে।

তার ভাষায়, ৪০ দিনের এই আগ্রাসন ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে বরং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি আরও জোরদার করেছে।

আকরামিনিয়া আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ যদি আবার ভুল হিসাব করে ইরানের ওপর হামলা চালায় তাহলে তাদের জন্য আরও অপ্রত্যাশিত বিকল্প আক্রমণ অপেক্ষা করছে।

কে এম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।