কাতার উপকূলে পণ্যবাহী বড় জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:৪০ পিএম, ১০ মে ২০২৬
ফাইল ছবি

কাতারের উপকূলের কাছে একটি পণ্যবাহী (বাল্ক ক্যারিয়ার) বড় জাহাজে আগুন লেগেছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে রোববার (১০ মে) সংবাদ প্রকাশ করেছে প্রেস টিভি ।

ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, রোববার (১০ মে) অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।

ইউকেএমটিও আরও জানায়, জাহাজে ছোট আকারের আগুন লাগার পরে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি কাতারের রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ২৩ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে ঘটেছে। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজসংক্রান্ত একাধিক ঘটনার মধ্যে এটিই সর্বশেষ।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সতর্ক করে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বলেছিল, ইরানের ট্যাংকার বা বাণিজ্যিক জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

শনিবার(৯ মে) আইআরজিসি নৌবাহিনী আবারও জানায়, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত জলসীমায় বিদেশি বাহিনীর উসকানিমূলক তৎপরতা বৃদ্ধির মধ্যেও তারা ইরানের সামুদ্রিক স্বার্থ এবং বৈধ বাণিজ্যিক নৌবহরের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ইরানি নৌবাহিনী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর পূর্ণ ও বুদ্ধিদীপ্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। একই সঙ্গে তারা পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইরানি জাহাজগুলোকে সুরক্ষা দিচ্ছে।

বাহিনীটি আরও জানায়, তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং ইরানের স্বার্থ ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

কেএম 

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।