পাঠ্যসূচিতে নবী মোহাম্মদের কার্টুন পড়ানোর প্রস্তাব
নবী মোহাম্মদের কার্টুন নিয়ে আবারো বিতর্কের সূচনা হলো। এর আগেও ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ছাপিয়ে সারা বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছিলো। এবার ডেনমার্কের একটি স্কুলের পাঠ্যসূচিতে নবীজীর বিতর্কিত সব কার্টুন পাঠ্যসূচিতে অর্ন্তভূক্ত করার দাবি জানিয়েছে ডেনমার্কে ধর্মীয় শিক্ষকদেরএকটি সমিতি।
তাদের দাবি নবীজীর এ যাবৎ কালের যাবতীয় বিতর্কিত কার্টুন কাল-বিলম্ব না করে পাঠ্যসূচিতে যোগ করতে হবে।
ডেনিশ একটি ওয়েবসাইটে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয় এমন বিতর্কিত কার্টুন কেন শিশুদের পাঠ্যপুস্তকে অর্ন্তভূক্ত করতে হবে? এই বিষয়ে তাদের যুক্তি হলো, এসব ব্যঙ্গচিত্র পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ধর্ম, সমাজ ও রাজনীতির মধ্যে যে সম্পর্ক আছে সে সম্পর্কে ভালো ধারণা পাবে।
সমিতির প্রেসিডেন্ট জন রাধাল বলেছেন, ‘মোহাম্মদের এই সঙ্কট’ ধর্মীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যিক বিষয়। এখনও কোনো পাঠ্য বইয়ে যে এসব কার্টুন স্থান পায়নি সেটাই বরং বিস্ময়ের ব্যাপার।
ডেনমার্কের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কার্টুনের ওপর লেখাপড়া করানো বাধ্যতামূলক নয়, তবে বহু স্কুল ইতিহাস ও সমাজ বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে এই কার্টুনগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে। ডেনিশ রাজনীতিকদের অনেকেই এই দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন।
দক্ষিণপন্থী ডেনিশ পিপলস পার্টি ধর্মীয় শিক্ষার ক্লাসে এসব কার্টুনকে বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষেও অবস্থান নিয়েছে অনেক দল। দেশটির রক্ষণশীল এবং মধ্য-ডানপন্থী এই দুটো দলই বলেছে, তারা এই কার্টুনকে পাঠ্যসূচিতে বাধ্যতামূলক করার পক্ষে নয়। কারণ শিক্ষকরা কি পড়াবেন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা শিক্ষকদেরই থাকা দরকার।
তবে রক্ষণশীল দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এসব ইমেজ ব্যবহার করলেও সেটা হবে খুব স্বাভাবিক একটা ঘটনা।
এর আগে নবী মোহাম্মদের কার্টুন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো ডেনমার্কের জিল্যান-পোস্টেন পত্রিকায় ২০০৫ সালে।
আর এমন কার্টুন প্রকাশের পর সারা বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশে এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
এমজেড/এআরএস/এমএস