ভোট জালিয়াতিতে মেয়র, প্রমাণে পদ গেল লুৎফুরের
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র লুৎফুর রহমান তার পদ হারিয়েছেন। দুর্ণীতি ও ভোট জালিয়াতি করে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তিনি তার মেয়র পদ হারান। শুধু তাই নয়, নতুন মেয়র নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় ওই কাউন্সিলে নতুন করে নির্বাচন হবে, তবে সেই নির্বাচনেও আর অংশ নিতে পারবেন না তিনি। সেইসঙ্গে আড়াই লাখ পাউন্ড জরিমানাও গুণতে হচ্ছে তাকে। খবর বিবিসি।
খবরে বলা হয়, গত বছর মেয়র পদে টাওয়ার হ্যামলেটস ফার্স্ট দল থেকে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন লুৎফর রহমান। ওই বছর নির্বাচন কমিশনে চারজন ভোটার তার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি ও অবৈধ কর্মকর্তা’ অভিযোগ করেছিলেন। এদের মধ্যে ওই সময় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যান্ডি এরলাম রয়েছেন।
লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ওই চারজনের আইনজীবীরা একাধিক অভিযোগ এনেছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ডাক যোগে ও পোলিং স্টেশনে ভোটে ব্যক্তি পরিবর্তন এবং ব্যালট পেপার টেম্পারিং।
চার ভোটারের ওই অভিযোগ তদন্তের পর হাই কোর্টে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশনার রিচার্ড মওরি গত বছর অনুষ্ঠিত ওই নির্বাচন বাতিলের রায় দিয়েছেন।
এদিকে, শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসা লুৎফুরের পক্ষ থেকে এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তারা এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আইনি উদ্যোগ নেবেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন বলেন, আমি খুব আনন্দিত যে, ন্যায়বিচার হয়েছে এবং টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে কালো মেঘ কেটে গেছে।
এর আগে লুৎফুরের ক্ষমতা খর্ব করে কাউন্সিলের অনুদানের অর্থ বরাদ্দ ও রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা তার কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছিল সরকার।
বাংলাদেশি লুৎফুর এক সময় লেবার পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলটির হয়ে তিনি টাওয়ার হ্যামলেটস বার কাউন্সিলে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। লেবার পার্টি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে ২০১০ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচন করে বিজয়ী হন। চার বছর পর আবার তিনি স্বতস্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রার্থী হন।
আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযোগকারীদের নেতৃত্বদানকারী অ্যান্ডি এরলাম বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এটা চমৎকার রায়। এবার নতুন করে মেয়র নির্বাচন হবে।
এএইচ/এমএস