যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের জবাব ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯:১৯ এএম, ১১ মে ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প/ ফাইল ছবি: হোয়াইট হাউজ

পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের সেই জবাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আলোচনার নামে দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘খেলা’ খেলছে।

রোববার (১০ মে) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়লাম। এটা আমার পছন্দ হয়নি—এটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!’

এর আগে আরেকটি পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান গত ৪৭ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাসীর সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘তারা আর হাসার সুযোগ পাবে না।’

কী বলেছে ইরান

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরান তাদের প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনে পাঠিয়েছে।

আরও পড়ুন>>
হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘর্ষ
ইরানে হামলার পর ট্রাম্প বললেন যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল
নিজের খোঁড়া গর্তে যেভাবে আটকা পড়েছেন ট্রাম্প

আল–জাজিরাকে এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, তেহরানের জবাবে পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, বিশেষ করে লেবাননে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে তেহরান।

ইরানি সূত্রের দাবি, তাদের জবাব ছিল ‘বাস্তবসম্মত ও ইতিবাচক’। এখন আলোচনার অগ্রগতি সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফার প্রস্তাব

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ওয়াশিংটন তেহরানকে ১৪ দফার একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ইরানকে আগামী ১২ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না। এছাড়া ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত এবং ইরানি বন্দরে চলমান নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

গত ১৩ এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং বেশ কিছু জাহাজ জব্দ করে। গত এক সপ্তাহে সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলিও হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশ্বাস, এই অবরোধের ফলে ইরান অর্থনৈতিকভাবে ধসে পড়ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চরম সংকটের মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

ইসলামাবাদ থেকে আল-জাজিরার কামাল হায়দার জানিয়েছেন, পাকিস্তান দুই পক্ষকে একটি ‘মধ্যপন্থা’ অবলম্বনের জন্য চাপ দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে গেছে। কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও চীনও এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় নিবিড় নজর রাখছে।

আগামী সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। চীন ইরানের তেলের বড় আমদানিকারক হওয়ায় এই সফরকে কেন্দ্র করে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ ফেলো আব্বাস আসলানি বলেন, ইরান সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলেনি, বরং মার্কিন প্রস্তাবের ওপর নিজেদের মতামত স্পষ্ট করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র যদি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের মতো কঠিন শর্তে অনড় থাকে, তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।