সু চির সঙ্গে কথা বলে ‘দারুণ উৎসাহিত’ মোঘেরিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬:০৭ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট: ০৬:১৮ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৭
সু চির সঙ্গে কথা বলে ‘দারুণ উৎসাহিত’ মোঘেরিনি

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে কথা বলে তিনি ‘দারুণ উৎসাহিত’। সোমবার মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিদোতে এশিয়া ও ইউরোপের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠক শুরুর আগে তাদের মধ্যে এই আলোচনা হয়।

আসেম নামে পরিচিত মিয়ানমারে দুই মহাদেশের কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপি বৈঠক শুরু হয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এতে অংশ নিয়েছেন। সু চির সঙ্গে বৈঠক শেষে মোঘেরিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি এটাকে (আলোচনা) দারুণ উৎসাহব্যাঞ্জক মনে করছি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি হবে বলে আমি খুবই আশাবাদী।’

এদিকে, রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দু’দেশের মধ্যে চুক্তি নিয়ে কথা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনেরও আশা প্রকাশ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক সহকর্মী দাবি করেছেন, ‘দুই দেশ এক ধরনের বোঝাপড়ায় প্রায় উপনীত হয়েছে, এখন শুধু কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো বাকি।’

তবে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর ধারণা, এখনও যেহেতু অনেকে রাখাইন থেকে পালাচ্ছে তাই রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমারের উপর চাপ দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন জার্মানিসহ কয়েকটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোববার তারা বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। মোঘেরিনিও এই সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন। মিয়ানমারে আসেম বৈঠকের সময় বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

আসেম বৈঠকের উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সু চি বিশ্বের অস্থিতিশীলতার জন্য অবৈধ অভিবাসীদের আংশিকভাবে দায়ী করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীরা সন্ত্রাসবাদ ছড়াচ্ছে। উল্লেখ্য, মিয়ানমারে অনেকেই রোহিঙ্গাদের অবৈধ অভিবাসী মনে করে এবং তারা সহিংস কার্যক্রমে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে তিন ধাপে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে চীন। সোমবার এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই প্রস্তাব দেয়। প্রথম ধাপে রাখাইনে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়। এই ধাপ ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে বলেও মনে করছে চীন। দ্বিতীয় ধাপে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়। সবশেষ ধাপে সমস্যার মূলে গিয়ে তার সমাধানের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চীনের মতে, সমস্যার মূলে রয়েছে দারিদ্রতা। তাই ওই অঞ্চলকে সহায়তা করতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

সূত্র : ডিডব্লিউ।

এসআইএস/এমএস