ক্যান্সারে মারা গেলেন ডায়নার প্রেমিক অলিভার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

প্রাক্তন যুক্তরাজ্যের যুবরাজ্ঞী ডায়নার থেকে অন্তত ১৬ বছরের বড় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাতে অবশ্য প্রেম আটকায়নি। ক্যান্সারে ভুগে ৭৩ বছর বয়সে ফ্রান্সে মারা গেছেন ডায়নার সেই প্রাক্তন প্রেমিক অলিভার হোর।

ডায়নার বাকি যে কজন প্রেমিকের কথা জানা যায় (জেমস হেউইট, জেমস গিলবে, উইল কার্লিং, হাসনাত খান এবং ডোডি আল ফায়েদ) তার মধ্যে অলিভারকেই সবচেয়ে সৌম্য দর্শন বলে মনে করা হতো। নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিকে ডায়না-অলিভারের সম্পর্ক নিয়ে হইচই শুরু হলেও প্রেমিক অলিভার কখনও তা স্বীকার করেননি।

কথিত আছে, কেনসিংটন প্যালেসে ঢোকার সময়ে ডায়না একবার অলিভারকে গাড়ির ডিকিতে নিয়ে এসেছিলেন। একবার রাজপ্রাসাদের রক্ষীরা অর্ধনগ্ন অবস্থায় অলিভারকে খুঁজে পেয়েছিলেন একটি তেজপাতা গাছের পেছনে।

কয়েকটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় পত্রিকা আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডায়না একটা সময়ে অলিভারকে নিয়ে রাতদিন মগ্ন ছিলেন। প্রাক্তন যুবরানির ঘনিষ্ঠ বান্ধবী লেডি বোকারকে (এক কূটনীতিকের স্ত্রী) ডায়ানা বলেছিলেন-তিনি দিবাস্বপ্ন দেখছেন, সুপুরুষ অলিভারের সঙ্গে ইতালিতে জীবন কাটাচ্ছেন। তিন সন্তানের জনক অলিভার শিল্পসামগ্রীর ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। সরবোন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র পড়তেন শিল্পকলার ইতিহাসের। ১৯৬৭ সালে তিনি ক্রিস্টিজ-এ যোগ দেন। পরে বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠেন ইসলামি শিল্পকলায়। স্ত্রী ডায়ান ছিলেন তেল সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী।

১৯৯৪ সাল নাগাদ প্রাক্তন যুবরানির সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলেন অলিভার। কিন্তু ডায়না সেই সময় অলিভারের বাড়িতে ফোন করে করে পাগল করে দিতেন বলে দাবি।

পরিস্থিতি শেষমেশ এমন পর্যায়ে পৌঁছায়, স্ত্রীর জোরাজুরিতে পুলিশে খবর দিতে বাধ্য হন অলিভার। তদন্তে দেখা যায়, কেনসিংটন প্রাসাদের ব্যক্তিগত ফোন লাইন থেকে ৩০০টি কল এসেছে অলিভারের বাড়িতে। অন্য বেশকিছু কল এসেছিল কেনসিংটন এলাকার সাধারণ ফোন থেকে।

পরে অবশ্য অলিভারের অনুরোধেই তদন্ত বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ১৯৯৫ সালে মার্টিন বশিরের কাছে এক সাক্ষাৎকারে ডায়না মেনে নিয়েছিলেন যে, তিনি অলিভারকে কখনও-কখনও ফোন করেছেন। ছয় থেকে নয়মাসের মধ্যে বেশ কয়েক বার। তবে কিছুতেই ৩০০ বার নয়।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের জীবনীকার লেডি কলিন ক্যাম্পবেলের দাবি, এই সময়ে ডায়না অসম্ভব মনঃকষ্টে ভুগছিলেন। কারণ প্রাক্তন যুবরানি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ায় গর্ভপাতের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল তাকে। সে সন্তান অলিভারেরই কি না, তা নিয়ে মুখ খোলেননি জীবনীকার!

সূত্র: দ্য সান, ডেইলি মেইল, দ্য মিরর

এসআর/পিআর

আপনার মতামত লিখুন :