ইয়েমেনে না খেতে পেয়ে ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১:৪৭ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৮

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ইয়েমেনে গত তিন বছর ধরে চলমান যুদ্ধে চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগে পাঁচ বছরের কম বয়সী আনুমানিক ৮৫ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শিশুদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান সেভ দ্য চিলড্রেনের বরাত দিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে সেভ দ্য চিলড্রেনের হিসেবের উল্লেখ করে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে অুপষ্টিতে ভুগে যে পরিমাণ শিশুর মৃত্যু হয়েছে তা যুক্তরাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর বার্নিংহামের পাঁচবছরের কম বয়সী মোট শিশুর পরিমাণের সমান।

জাতিসংঘের হিসেব মতে, ইয়েমেনে গত তিনবছর ধরে চলা যুদ্ধে ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। অর্ধেকের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষপীড়িত হওয়ায় দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি করেছে বলে সতর্ক করে জাতিসংঘ। ইয়েমেন যুদ্ধ বন্ধ করে মানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে দেশটিকে রক্ষা করতে সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী হেলে থরনিং স্মিড বলেন, ‘ইয়েমেনের লাখ লাখ শিশু জানে না পরের বেলার খাবার কোথা থেকে আসবে কিংবা আদৌ আসবে কিনা। আমি উত্তর ইয়েমেনের একটি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখেছি, শিশুরা ক্ষুধার জ্বালায় এতই দূর্বল যে তারা কাঁদতে পর্যন্ত পারছে না। ক্ষুধা তাদের তাদের সম্পূর্ণ শরীরকে নিস্তেজ করে দিয়েছে।’ এই যুদ্ধ ইয়েমেনের পুরো একটা প্রজন্মকে ধ্বংস করতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে সেভ দ্য চিলড্রেন জানায় ২০১৮ সালে পাঁচ বছরের কম বয়সী কমপক্ষে চার লাখ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে। তারা সতর্ক করে বলে, বছর শেষ হওয়ার আগেই আরও ৩৬ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপে দেশটির সংঘাত বাড়তে থাকে। সে বছর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা শুরু করে। পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট আবদ্রাব্বু মানসুর হাদি।

জাতিসংঘের হিসাব মতে, তিন বছর ধরে চলা এই যুদ্ধে কমপক্ষে ৬ হাজার ৮’শ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৭’শ জন এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ মানুষ। যুদ্ধের কারণে দেশটিতে সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে খাদ্য। দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা ভয়াবহ এ যুদ্ধের সবেচেয়ে বড় শিকার।

এসএ/জেআইএম

আপনার মতামত লিখুন :