স্কুলছাত্র স্বাধীন খুন : সাগরকে খুঁজছে পুলিশ
রাজধানীর কদমতলীতে স্কুলছাত্র মো. স্বাধীনকে গলা কেটে হত্যায় জড়িত প্রধান সন্দেহভাজন সাগরকে খুঁজছে পুলিশ। তবে ঘটনার ৯ দিনে অতিবাহিত হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
কদমতলী থানা সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা স্যান্ডেল ও পরে একটি ফুলপ্যান্ট উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর স্যান্ডেল আর প্যান্ট একজনেরই বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। আর সে প্যান্ট ও স্যান্ডেল নিহত স্বাধীনের বন্ধু সাগরের। তবে ঘটনার পর থেকে গা ঢাকা দিয়েছে সাগর।
পুলিশ জানায়, সাগর চকোলেট তৈরির একটি কারখানায় কাজ করতো। তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব গুমর জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ কদমতলীর দক্ষিণ দনিয়ার ৬৯৮/২ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে স্বাধীনের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ছাত্র স্বাধীন এবার মুরাদপুর সমীরণ নেসা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিল।
বাবা সোহেল রানা ও মা রিনা বেগমের সঙ্গে ওই ভাড়া বাসায় থাকত স্বাধীন। খুনের সময় বাবা-মা কেউই বাসায় ছিলেন না। ঘটনার পর মা রিনা বেগম বাদী হয়ে কদমতলী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনায় স্বাধীনের বন্ধুরা জড়িত বলে সন্দেহ করেছেন মা রিনা বেগম। মামলার এজাহারে তিনি এমনটিই জানিয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন উপ পরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল আরেফিন।
এব্যাপারে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, স্কুলছাত্র স্বাধীন হত্যায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। তবে স্বাধীন হত্যায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করেছি। নাম সাগর। তিনি স্বাধীনের বন্ধু। সাগরকে না পেয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। খুব শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
তৌহিদুল আরেফিন আরও বলেন, বেশ কিছু আলামত জব্দ করেছি। তা যাচাইয়ের পর সম্ভাব্য খুনি হিসেবে সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। সাগরকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেই খুনের সব রহস্যের জট খুলবে। তাকে গ্রেফতারে অভিযানও চলছে।
কদমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমর অনেকটা নিশ্চিত হয়েই একজনকে খুঁজছি।
মামলার তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রথম দিন ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি স্যান্ডেল জব্দ করেছিল পুলিশ। স্বাধীনের ডায়েরি ও মোবাইলফোনের সূত্র ধরে দেখা যায় বন্ধু সাগরের মোবাইলফোন ঘটনার দিন (২৮ মার্চ) থেকেই বন্ধ।
এরপরই গত ৩১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) রাতে কদমতলীর পাটেরবাগে সাগরের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার পরনের রক্তমাখা ফুলপ্যান্ট পাওয়া যায়। পূর্বে জব্দ করা স্যান্ডেলটিও সাগরের বলে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের পর নিশ্চিত হয় পুলিশ।
এর আগে স্বাধীনের মা রিনা বেগম পুলিশকে জানায়, পাটেরবাগের সাগর তার ছেলের বন্ধু ছিল। বিভিন্ন সময় সে তার ছেলেকে সাগরসহ অন্য বন্ধুদের চলতে দেখেছেন। কয়েক বন্ধুর সঙ্গে স্বাধীনের দ্বন্দ্বও ছিল। স্বাধীন ও সাগর একসঙ্গে চলাফেরা করলেও সাগর পড়ালেখা করত না। সে এলাকার বন্ধু।
জেইউ/এএইচ/এমএস