হার্ট অ্যাটাকে বাবার মৃত্যু, একা বাড়িতে ক্ষুধায় মারা গেল সন্তানও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭:১১ পিএম, ১৮ জানুয়ারি ২০২৪
ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরের বয়সী ছেলেকে নিয়ে একাই বাড়িতে থাকতেন ৬০ বছর বয়সী বাবা। একদিন হার্ট অ্যাটাকে বাড়িতেই মারা যান বাবা। তার অবর্তমানে বাড়িতে কেউ না থাকায় খাবার না পেয়ে ক্ষুধা-তৃষ্ণায় মারা যায় বাচ্চাটিও। বাবার মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় শিশুটির মরদেহ। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের লিঙ্কনশায়ারে হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ওই বাবার নাম কেনেথ ও তার শিশু সন্তানের নাম ব্রনসন ব্যাটার্সবি। গত ৯ জানুয়ারি লিঙ্কনশায়ারের স্কেগনেস শহরের একটি বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বাবা-ছেলেকে বাইরে দেখা গিয়েছিল। লিঙ্কনশায়ার কাউন্টি কাউন্সিল এই শিশুর মৃত্যু নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: হুথির বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে ২ মার্কিন নৌ-কমান্ডো নিখোঁজ

আরও জানা গেছে, শেষবার তাদের যখন বাইরে দেখা যায়, তার দুই সপ্তাহ আগে হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন কেনেথ। ধারণা করা হচ্ছে, ২৯ ডিসেম্বর আবারও হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু হয় তার। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় শিশু ব্রনসনও একা হয়ে যায়। খাবার দেওয়ার মতো কেউ না থাকায় অনাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটিও।

বিবিসি জানিয়েছে, শিশুটি অরক্ষিত থাকায় প্রতি মাসে একবার করে শিশুসেবা সংস্থার কর্মীরা তাকে দেখে যেতেন। তারই অংশ হিসেবে গত ২ জানুয়ারি এক সমাজকর্মী কেনেথের বাড়িতে যান। এর আগে ২৭ ডিসেম্বর কেনেথের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন ওই সমাজকর্মী।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যের জিডিপি ঠিক থাকলেও শঙ্কা কাটেনি মন্দার

কিন্তু সেদিন বাড়িতে গিয়ে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে শিশুসেবা সংস্থার ওই কর্মী অন্যান্য জায়গায় খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেন, যেখানে শিশুটি থাকতে পারে। পরে কাউকে না পেয়ে তিনি চলে আসেন। এর দুই দিন পর তিনি আবারও শিশুটির খোঁজে ওই বাড়িতে যান। সেদিনও বাড়িতে কারও সাড়া-শব্দ না পেয়ে পুলিশকে খবর দেন ওই কর্মী।

কিন্তু পাঁচ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও পুলিশের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির মালিকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে তালা খুলে ভেতরে ঢোকেন ওই সমাজকর্মী। ঘরে ঢুকে তিনি দেখতে পান, বাবার মরদেহের পাশে ব্রনসনও মৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। খাবার-পানি না পাওয়ায় তার শরীর কুঁকড়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনি পতাকা ওড়ানো বেআইনি হতে পারে

শিশুটির মা সারাহ পিসি (৪৩) জানিয়েছেন, বড়দিনের আগে সন্তানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। এরপর আর বাচ্চাকে দেখতে যাননি তিনি। কেনেথের সঙ্গে ঝামেলা থাকায় তিনি আলাদা থাকতেন। তার দাবি, শিশুসেবা সংস্থার কর্মীরা একাধিকবার তার সন্তানকে বাঁচানো সুযোগ পেয়েও এড়িয়ে গেছেন।

লিঙ্কনশায়ার পুলিশের এক মুখপাত্র বলেছেন, পুলিশ গত ৯ জানুয়ারি দুপুর ৩টা ২৫ মিনিটে এই ঘটনার বিষয়ে জানতে পারে। এরই মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ হয়েছে ও এই মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এরপরও ব্রনসনের দেখভালের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করা হবে।

সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

এসএএইচ

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।