করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় ‘আমার আস্থা’

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১:০৭ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২০

শরিয়ত রহমান। ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করেন দেশের প্রথম কর্পোরেট হোম কেয়ার সার্ভিস কোম্পানি ‘আমার আস্থা’ নিয়ে। ব্যতিক্রমী আইডিয়াটি দেশের শতশত কর্মজীবী মানুষের আস্থার ঠিকানা হয়ে উঠেছে। করোনা আক্রান্ত রোগীর সেবায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স সরবরাহ করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি তার ক্যারিয়ার ও সফলতা নিয়ে কথা বলেছেন জাগো নিউজের সঙ্গে। সমসাময়িক বিষয়ে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বেনজির আবরার—

‘আমার আস্থা’ প্রতিষ্ঠার ভাবনা কিভাবে এলো?
শরিয়ত রহমান: আমি বুয়েট থেকে গ্রাজুয়েশন করে জার্মানিতে যাই মাস্টার্স করতে। ২০১৬ সালে সেখান থেকে ফিরে একটি মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট কোম্পানিতে কাজ শুরু করি। সেই কোম্পানিতে ‘আমার ডক্টর’ নামক মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট টিমে কাজ করতাম। তো অনেকদিন মেডিকেল সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে একটি বিষয় খেয়াল করলাম যে, আমাদের দেশে একটি গুরুতর সামাজিক সমস্যা আছে। সেটি হচ্ছে- একটি বাসায় যখন বয়স্ক বা অসুস্থ মানুষ অথবা বাচ্চা থাকে, তাদের দেখাশোনার জন্য প্রায়ই বাসার শিক্ষিত নারীদের চাকরি ছাড়তে হয়। দেশে হোম হেলথ কেয়ার সংস্কৃতি ঠিক ওভাবে গড়ে না ওঠায় নারীর অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ সমস্যার সমাধান হিসেবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বুয়েটের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী আমেরিকা প্রবাসী প্রকৌশলী জাভেদ ইকবাল ভাইকে নিয়ে শুরু করি ‘আমার আস্থা’ নামক হোম কেয়ার সার্ভিস কোম্পানি।

astha-1

নতুন একটি উদ্যোগ, যা আগে কখনো কেউ ভাবেননি। কী ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে এবং কী কী পেয়েছেন?
শরিয়ত রহমান: দেখুন স্বাস্থ্যক্ষেত্রে আস্থা এবং বিশ্বাস খুবই বড় প্রভাবক। তাছাড়া প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নতুন চিন্তাধারার একটি উদ্যোগ হচ্ছে ‘আমার আস্থা’। আর ভেবে দেখুন, যাচাই-বাছাই না করে আপনি কী চাইলেই সম্পূর্ণ অপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে বাসায় প্রবেশের অনুমতি দেবেন? অবশ্যই না। তাই সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে মানুষের আস্থা অর্জনে। এ ছাড়াও প্রথমদিকে দক্ষ ও দায়িত্বশীল কেয়ারগিভার পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। সত্য বলতে কি, আস্থা ও দায়িত্বশীলতাই সবকিছু। তা হোক ক্লায়েন্টকে সার্ভিস দিতে গিয়ে অথবা কেয়ারগিভার নিয়োগ দিতে। সবার কাছ থেকে উৎসাহ পেয়ে পরবর্তীতে ডায়াগনস্টিক হোম সার্ভিস চালু করি; যেখানে রোগীর বাসায় গিয়ে রক্ত ও মূত্র সংগ্রহ করে আমাদের আন্তর্জাতিক মানের পার্টনার ল্যাবে টেস্ট করে সেই রিপোর্ট ই-মেইলে অথবা রোগীর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ ছাড়াও অক্সিজেন সিলিন্ডার সার্ভিস শুরু করি, যেখানে ন্যায্য মূল্যে কমপক্ষে ১৫ দিনের জন্য একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভাড়া পাবেন। যা একজন করোনা রোগীর জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে।

astha-1

কাজ করতে গিয়ে আর কী পেয়েছেন?
শরিয়ত রহমান: সবচেয়ে বেশি যেটা পেয়েছি, তা হচ্ছে অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া। যা আমার আস্থা প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল।

করোনাকালীন নার্সিং সেবা কতটা চ্যালেঞ্জিং?
শরিয়ত রহমান: উদ্যোগটি যেমন মহৎ ছিল, তেমনি বেশ কঠিন ছিল। আমরা যখন করোনা রোগীদের জন্য নার্সিং সেবা শুরু করি; তখন করোনা পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ ছিল। আতঙ্কগ্রস্ত ছিল প্রায় সবাই। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে। এ চিন্তাধারা থেকে আমরা শুরু করি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স ও অ্যাটেন্ডেন্টের মাধ্যমে বাসায় বা হাসপাতালে রোগীদের সেবা প্রদান। প্রথমদিকে কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হলেও আমাদের সাহসী নার্স ও অ্যাটেন্ডেন্টরা আন্তরিকতার সাথে অসংখ্য মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। যেটা সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।

astha-2

আপনার আরেকটি মেডিকেল স্টার্টআপ ‘শান মেডিকেল টেকনোলজি’ নিয়ে কিছু বলুন—
শরিয়ত রহমান: ছয় মাস আগে শুরু হওয়া শান মেডিকেল টেকনোলজির মাধ্যমে মূলত মেডিকেল লজিস্টিক সার্ভিস ও যন্ত্রপাতি সাপ্লাই দেই। উদাহরণস্বরূপ কোনো হাসপাতালের যন্ত্রপাতির মেরামতের প্রয়োজন পড়ল। আমার টিম সেই সার্ভিসটি প্রদান করে। এ ছাড়াও নিজেদের তৈরি অনলাইন রিপোর্টিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে দেশের প্রখ্যাত ডাক্তারদের দ্বারা এক্স-রে ও ইসিজির রিপোর্টিং করা হয়।

দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে যদি কিছু বলতেন—
শরিয়ত রহমান: ১৭ কোটি মানুষের দেশে অনেক সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান। যেগুলো সমাধানের জন্য অনেক উদ্যোক্তার প্রয়োজন। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিজের দক্ষতা অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্র নির্বাচন করা। যেটাকে আমরা ডোমেইন এক্সপার্টাইজ বলি। এতে ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। বলা বাহুল্য, আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম অনেক মেধাবী। যদি তারা সততা, নিষ্ঠা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কোনো উদ্যোগ নেয়, বাংলাদেশ অবশ্যই তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যাবে।

এসইউ/এএ/পিআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]